বৃহস্পতিবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঝুলে যাচ্ছে ‘বাদল-শওকত’র কমিটি !

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার : ঝুলে গেছে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন। সাইফ উল্লাহ বাদল ও শওকত আলীর বিপরীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পাল্টা আরো দুটি  প্যানেল কেন্দ্রে অনুমোদনের জন্য দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

গত ৭ ডিসেম্বর নমোপার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে আলহাজ্ব সাইফ উল্লাহ বাদল সভাপতি ও এম শওকত আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তাদের দুজনের উপর ফতুল্লায় পূর্নাঙ্গ কমিটি করার বিধান থাকলেও গত দুই মাসে তারা কোন কমিটি জেলা কমিটির কাছে জমা দিতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এখনো থানা এলাকায়  মাঠ  গোছাতে পারেনি বলেও মনে করেন অনেকে।

 

দীর্ঘ ১৬ বছরে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির একটি সভাও হয়নি। তবে হুট করে থানা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ পঞ্চবটিতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে কার্যকরী কমিটির একটি সভা করেছিলেন। আর সেই সভাতে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

তবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও সম্মেলনের মোড় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এরই মধ্যে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে একটি পক্ষ কেন্দ্রে সম্মেলন হওয়ার ব্যাপারে জোর তাগিদ দেয়া শুরু করে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাধারণ নেতাকর্মীদের চিঠির প্রেক্ষিতে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের ব্যাপারে দুইবার চিঠি দেন থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে।

 

আর ঐ চিঠি দেয়ার পর পরই ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ সম্মেলনের ব্যাপারে নড়েচড়ে বসে। এরই মধ্যে গত বছরের নভেম্বরে তড়িগড়ি করে সম্মেলন করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় অনেকে। ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল ফতুল্লা থানার প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটি। সাথে ইউনিয়ন কমিটিও করার ব্যাপারে তেমন ইচ্ছা ছিলনা অনেকের।

 

এরই মধ্যে কাশিপুর ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কাশিপুরে ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে ঘটে তুলকালাম কান্ড। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দুলাল হোসেন প্রতিটি ওয়ার্ডে পাল্টা কমিটি করার পরই ফতুল্লা জুড়ে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি না হওয়ায় শুরু হয়েছে অদৃশ্য বিদ্রোহ।


বিষয়গুলো পর্যবেক্ষন করছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমান। তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের নমোপার্কে ডেকেছিলেন। আর সেখানেই তিনি নেতা কর্মীদের সামনে রেখে থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে সাইফ উল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলীর নাম ঘোষণা করেন।

 

তিনি অবশ্য সেই সভায়,সম্মেলনে অন্য কোন প্রার্থী আছে কিনা উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু  কোন নেতাকর্মীরা কারো নাম প্রস্তাব না করে নিরব ভুমিকা পালন করেন।


নমো পার্কের সভার পর পরই ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের ঘোষণা দেয়া হয় গত ৭ ডিসেসম্বর। সেই অনুযায়ী সম্মেলনের আয়োজন করে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ।  সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধূরী নওফেল প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বলেও তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

 

কিন্তু সম্মেলনের দিন তিনি উপস্থিত হননি। সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমান, নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই,সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল,সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলীসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের অনেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন। 


ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাবেক একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,ফতুল্লার ইউনিয়নগুলোতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি না হওয়ায় নাম মাত্র ব্যাক্তিদের কাউন্সিলর করা হয়েছে।  এ কারণে সম্মেলনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতাই ছিলেন অনুপস্থিত।

 

এর মধ্যে খোদ কাশিপুর ইউনিয়ন থেকে কাউন্সিল না হয়েও যাদেরকে কাউন্সিলর করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ১৯ জন,এনায়েতনগরের ২১জন কাউন্সিলে অনুপস্থিত ছিলেন। অন্য ইউনিয়নগুলোর চিত্রও ছিল একই রকম। এই অনুপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বলেই প্রমানিত হয়েছে বলে দাবী করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।


তিনি আরো জানান,ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে সাইফ উল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শওকত আলী নির্বাচিত হওয়ার পরও বিগত ২ মাসের মধ্যেপূর্নাঙ্গ কমিটি জেলা নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দিতে পারেনি। গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে,থানা কাউন্সিলের পূর্বে ওয়ার্ড কমিটিগুলো করতে হবে।

 

এরপর ইউয়িন কমিটি গঠন হবে। ইউনিয়ন কমিটি গঠন করার পর পরই কাউন্সিলর নির্ধারণ করে কাউন্সিল করতে হবে। কিন্তু গত ৭ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যে কাউন্সিল হয়েছে তা সঠিক হয়নি বলেই বাদল শওকত পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে পারছে না।

 

অনুষ্ঠিত সম্মেলন যে বিতর্কিত,সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবগত রয়েছে। অপর দিকে বাদল-শওকতের বাইরে গিয়ে কেন্দ্রে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুটি প্যানেলের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। তাই বলা চলে সহসা আলোর মুখ দেখবে না বাদল-শওকতের কমিটি। অপরদিকে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও অনেকে ফতুল্লার কমিটি নিয়ে মনোক্ষুন্ন রয়েছে।

 

ফলে গত ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন নিয়ে মতানৈক্য থাকায় কমিটির অনুমোদন দেয়া নাও হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।  তবে পাল্টা প্যানেলের তালিকাতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কারা রয়েছেন সে ব্যাপারে কোন কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

 

এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন তৃনমূল নেতা বলেন,বাদল-শওকত ভাই ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগকে  বিগত দিনে এগিয়ে নিয়ে যেতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তারা শামীম ওসমানের হাতকে শক্তিশালী করতে গিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের শিকারও হয়েছে। বাদল-শওকতের বিকল্প কেউ যদি থাকতো তাহলে কাউন্সিলে তারা প্রার্থী হলেই পারতো। তখন বুঝা যেতো আসলচিত্র।

 

যেহেতু দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সাইফ উল্লাহ বাদল সভাপতি ও শওকত আলী  সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সেখানে আর কেউ দ্বন্ধ করে কিছু করতে পারবে বলে তারা মনে করেন না বলেও জানান। 

 

এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এম শওকত আলী বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর কাউন্সিল হওয়ার পর আমাদের নেতা সাংসদ শামীম ওসমান দেশের বাইরে ছিলেন। অপরদিকে অল্প কিছুদিন আগে বাদল ভাইয়ের ছেলে মৃত্যুবরণ করেছে।

 

সেক্ষেত্রে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে শিঘ্রই তা করে অনুমোদনের জন্য জেলা কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।  তিনি আরো বলেন,কেন্দ্রে পাল্টা কমিটি দেয়ার ব্যাপারে আমি কোন কিছু অবগত নই। অবগত নই।
 

এই বিভাগের আরো খবর