বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৬ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

বরযাত্রী ও যাত্রীর ছদ্মবেশে চুরি করত চক্রটি, গ্রেফতার ৭

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : দীর্ঘ দশ বছর যাবৎ কখনও বরযাত্রী, কখনও আবার যাত্রীবাহী বাস, লঞ্চ, ট্রেনের যাত্রীর ছদ্মবেশে মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিত এ সংঘবদ্ধ চোরচক্রটি। 

 

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের বাঘমারা এবং ঢাকার ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের মূলহোতাসহ ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।উদ্ধার করা হয়েছে ৫টি স্মার্ট ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ল্যাপটপ। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেল ১১ টার দিকে র‌্যাব-১১ এর সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

 


গ্রেফরকৃতরা হল, চোর চক্রের মূলহোতা মো. শাহাজালাল ওরফে শাংখা (৩৫), আব্দুল কাদির জিলানী (১৯), মো. সাদ্দাম (২৪), আরিফুল ইসলাম ওরফে মিঠু (২৮), মো. নুর উদ্দিন ওরফে  বাবু (২৯), মো. সুজন (২৩) ও  মো. শাহিন মিয়া (৪০)।

 

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক রেজাউল হক জানান,  বিয়ে বাড়িগুলো তাদের প্রধান টার্গেট। প্রাথমিকভাবে টার্গেট করার পর বিয়ে বাড়ি চিনে এসে ওই বিয়ে বাড়ি ও বিয়ের দিন-তারিখ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তাদের দলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। অতঃপর তারা বিয়ের নির্ধারিত তারিখে বরযাত্রীর ছদ্মবেশে বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। যথারীতি বিয়ে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে প্রবেশ করে সুবিধাজনক সময়ে মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন স্বর্ণালংকার, স্মার্টফোন, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ইত্যাদি চুরি করত তারা।

 

এছাড়াও বিয়ে বাড়িতে তাদের অন্যতম টার্গেট হচ্ছে শিশু ও কিশোরী মেয়ে। বিয়ে বাড়িতে অতিথিদের ভীড়ের মুখে এই সমস্ত টার্গেট করা শিশু ও কিশোরীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছোঁ মেরে ছিড়ে নিয়ে থাকে। শিশু ও কিশোরীরা বিয়ে বাড়িতে বিভিন্ন আনন্দে মেতে থাকায় অসাবধানতাবশত এই চক্রের অন্যতম টার্গেট হয়ে থাকে। এভাবে দিনব্যাপী বিয়ে বাড়িতে চুরি সম্পন্ন করে সেখান থেকে সু-কৌশলে চোরাইকৃত মালামালসহ বের হয়ে আসে।

 

তিনি আরও জানা, এই চক্রের মূল হোতাই হচ্ছে শাহাজালাল। তার খেতাবি নাম শাংখা। তিনিই মূলত সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। তার নেতৃত্বেই চক্রটি বিয়ে বাড়িতে বরযাত্রী এবং গণপরিবহনে যাত্রী বেশে চুরি করে আসছিলো এবং চোরাই স্বর্ণালঙ্কার ডেমরার সারুলিয়া এলাকার জুয়েলারি দোকানে বিক্রি করে থাকে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর