মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ১ ১৪২৬   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

এক সেরেস্তাদারের বিরুদ্ধে ১৫০ আইনজীবীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের অনুলিপি বিভাগের সেরেস্তাদার কুদ্দুস ভূ্্ঁইয়ার বিরুদ্ধে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ১৫০ জন আইনজীবী।

 

ওই সেরেস্তাদারের বিরুদ্ধে ১৫০ জন আইনজীবী স্বাক্ষর দিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত কুদ্দুস বলছেন, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মূল ঘটনা এটি নয়। এড.শিপলু ১০ দিন আগে অফিস সময়ের পরে এসে একটি কাজ করতে আমি বারণ করায় এমনটি করিয়েছেন।  


লিখিত অভিযোগে আইনজীবীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের অনুলিপি বিভাগের সেরেস্তাদার হিসেবে কর্মরত থেকে নকল সরবরাহে কৃত্রিম দৃঢ় গতি সৃষ্টি করে বিচার প্রার্থী ব্যক্তিদের বিচারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং অনৈতিক অবৈধ অর্থ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কায়দা ফিকিরি করে আইনজীবী তৎসহ বিচার প্রার্থী ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে আসছে। একই সঙ্গে সর্বদা আইনজীবীদের অসম্মান প্রদর্শন করে হেয় করা তার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। 


এমন পরিস্থিতিতে তাকে উক্ত পদ থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান আইনজীবীরা। ১৫০ জন আইনজীবীর পক্ষে এ সকল আইনজীবীদের স্বাক্ষর সহ অভিযোগটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মোজ্জাম্মেল মল্লিক শিপলু।


কুদ্দুস ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১৫০ জন আইনজীবীর মধ্যে রয়েছেন- জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান, সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনজুম আহমেদ রিফাত সহ ১৫০ জন আইনজীবী।


এ অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া বলেন, অভিযোগ  পেয়ে আমরা জেলা জজকে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


এদিকে অর্থের লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে কুদ্দুস ভূঁইয়া বলেন, ‘কারো কারো অনৈতিক কথা না মেনে নেয়ার কারণেই আমরা বিরুদ্ধে অর্থের লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন। এড.শিপলু ১০ দিন আগে অফিস সময়ের পরে এসে একটি কাজ করতে আমি বারণ করায় এমনটি করিয়েছেন।

 

আমি তাকে ওইদিন বলেছিলাম অফিসের সবাই চলে গেছে আপনি এর পরেরদিন আসেন স্টাফরা আসলেই আপনার কাজটি করে দেবো। ওইদিন উনি অনেক রাগ হয়ে অনেক কথা বলেছেন। পরে উনি আমার বিরুদ্ধে উৎকোচের অভিযোগ এনে পিটিশন দেন। সেখানে অনেক উকিল সাহেবদের সই নিয়েছেন। আমাকে জজ সাহেব ডেকেছিলেন।

 

আমার কথা আপাদমস্তক শোনার পর এটি তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাহেবও আমাকে ডেকে নিয়ে আমার বক্তব্য শুনেছেন। প্রায় ৩০ বছর আমি এই আদালতে কাজ করছি।

 

এমন অভিযোগ কেউ কখনো তোলেনি। এড.শিপলু ওইদিন আমি কাজটি করিনি বিধায় ক্ষিপ্ত হয়ে এমন অভিযোগ তুলেছেন। আমি একা অফিসে থাকলে তো কাজ হবেনা, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি টিম ওয়ার্কের ব্যাপার। কিন্তু তিনি এটা জেনেবুঝেও এমনটি করলেন।’ 
 

এই বিভাগের আরো খবর