Logo
Logo
×

ধর্ম

কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে পবিত্র কুরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে তার মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে ইসলামে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

পবিত্র কুরআনের সুরা আশ-শূরার ৪৯-৫০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দেন। আবার কাউকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং কাউকে নিঃসন্তান রাখেন। অর্থাৎ সন্তান ছেলে হবে, নাকি মেয়ে—তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তাই কন্যাসন্তানের জন্মের জন্য মাকে দোষারোপ করা অন্যায়।

ইসলামপূর্ব আরব সমাজে কন্যাসন্তানের জন্মকে লজ্জার বিষয় মনে করার প্রবণতা ছিল। সুরা নাহলের ৫৮-৫৯ নম্বর আয়াতে এ মানসিকতার সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,

 وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِٱلْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُۥ مُسْوَدًّۭا وَهُوَ كَظِيمٌۭ

অর্থ- আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে প্রচণ্ড মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে।

আর সুরা তাকভিরের ৮-৯ নম্বর আয়াতে জীবন্ত সমাহিত কন্যাশিশুকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার কথা বলা হয়েছে। এসব আয়াত কন্যাশিশুর প্রতি অবজ্ঞা ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়।

কন্যাসন্তানকে ভালোভাবে লালন-পালনের প্রতিদান সম্পর্কেও হাদিসে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমের ২৬৩১ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি মেয়েকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালনকারীর জন্য কিয়ামতের দিন নিজের সান্নিধ্যের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাই মেয়ের খাবার, পোশাক ও চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও অভিভাবকের দায়িত্ব।

কন্যাসন্তানের অধিকার রক্ষায় উত্তরাধিকারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ৭ নম্বর আয়াতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সেখানে বলা হয়েছে, 

لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا 

বিয়ে হয়ে গেছে—এ অজুহাতে মেয়েকে তার প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যায় না। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারিত হয়।

বিয়ের ক্ষেত্রেও নারীর সম্মতির গুরুত্ব রয়েছে। সুনান আবু দাউদের ২০৯৬ নম্বর হাদিসে অনিচ্ছায় দেওয়া বিয়ে সম্পর্কে অভিযোগকারী এক নারীর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এ থেকে বিয়েতে নারীর মতামত ও সম্মতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।

এ ছাড়া সুরা নিসার ৪ নম্বর আয়াতে স্ত্রীকে মোহরানা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَاتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَرِيئًا

অর্থ- আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্তভাবে (হৃষ্টচিত্তে) প্রদান করো। অতঃপর তারা যদি নিজেদের সন্তুষ্টিতে মোহরের কিছু অংশ তোমাদের ছেড়ে দেয়, তবে তা তৃপ্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো। 

মোহরানা নারীর নিজস্ব অধিকার। তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া তা নেওয়া উচিত নয়।

কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা হলো, কন্যাসন্তান কোনো বোঝা নয়; বরং আল্লাহর দান। তাই জন্মের পর তাকে সাদরে গ্রহণ করা, ভালোবাসা ও মর্যাদা দেওয়া এবং শিক্ষা, সম্পদ ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রত্যেক পরিবারের দায়িত্ব। কোনো মাকে কন্যাসন্তানের জন্মের জন্য দোষারোপ করা কিংবা কোনো মেয়েকে অবহেলা করা ইসলামের এই শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন