ছবি : সংগৃহীত
মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, পথ হারায় কিংবা চারপাশ অন্ধকার মনে হয়— তখন দোয়া হয়ে ওঠে আশার শেষ আলো। দুনিয়ার দরজা বন্ধ হলেও আসমানের দরজা সবসময় খোলা থাকে। কারণ আমরা ডাক দিচ্ছি সেই সত্তাকে, যিনি বলেন ‘কুন’, আর সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায় ‘ফায়া কুন’।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তিনি যখন কোনো কিছুর ফয়সালা করেন, তখন শুধু বলেন—‘হও’, আর সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে যায়।” (সুরা ইয়াসিন: আয়াত ৮২)
আরও বলেন—
“তোমাদের রব বলেছেন— আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সুরা গাফির: আয়াত ৬০)
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়ার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন—
“আল্লাহর কাছে দোয়া করো এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে যে, তিনি তা কবুল করবেন।” (তিরমিজি ৩৪৭৯)
আরও বলেছেন—
“তোমাদের দোয়া কবুল করা হয়, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে।” (বুখারি, মুসলিম)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মানুষ দ্রুত ফল চায়, ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। তাই করণীয় হলো—
দোয়াকে জীবনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা
ফল আসার সময় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া
দোয়ার সঙ্গে হালাল উপার্জন ও সৎ আমল যুক্ত করা
কঠিন সময়ে দোয়া আরও আঁকড়ে ধরা
‘অসম্ভব’ শব্দটি হৃদয় থেকে মুছে ফেলা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“দোয়াই হলো ইবাদতের সারমর্ম।” (আবু দাউদ ১৪৭৯, তিরমিজি ২৯৬৯)
দোয়া কখনো শূন্যে যায় না— কখনো সঙ্গে সঙ্গে কবুল হয়, কখনো দেরিতে, আবার কখনো আরও উত্তম কিছুর জন্য জমা থাকে। তাই দোয়া করো, বিশ্বাস নিয়ে করো, আর কখনোই হাল ছেড়ে দিও না। কারণ তুমি ডাকছো আল-মুক্তাদিরকে— যাঁর কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই।



