সন্তানের অব্যক্ত কথা এবং পিতা-মাতার হৃদয়বান উপস্থিতি
মাহাফুজ কাজী রিজু
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ এএম
মাহাফুজ কাজী রিজু
জীবনের গতিপথ সবসময় সরলরেখায় চলে না। এখানে যেমন সাফল্যের আনন্দ আছে, তেমনি আছে পরাজয়ের গ্লানিও। এই চিরায়ত সত্যটি আমাদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু জীবনের কোনো এক মোড়ে এসে সন্তান যখন ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়, তখন সে এমনিতেই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে। ঠিক এই নাজুক সময়টাতে পিতা-মাতার সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা কঠোর আচরণ তার সেই মানসিক কষ্টকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের বুঝতে হবে, সন্তানের পরাজয় কোনো অপরাধ নয়; এটি জীবনেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। মানুষ হিসেবে সন্তান ভুল করতে পারে, সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সে চেষ্টা করেনি। এমন কঠিন মুহূর্তে তিরস্কারের চাবুক না চালিয়ে, তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহমর্মিতা ও ভালোবাসার হাত।
অনেক সময় সন্তানরা লোকলজ্জা বা ভয়ের কারণে পিতা-মাতার কাছে মনের ভাব ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারে না। এই প্রকাশ করতে না পারার দেয়ালটি তাদের ঠেলে দেয় গভীর একাকিত্বের দিকে। আর সেই চরম হতাশা থেকেই অনেকে ভুল পথ বেছে নেয়, নিয়ে ফেলে আত্মঘাতী কোনো সিদ্ধান্ত। এই বিপর্যয় এড়াতে পিতা-মাতাকেই এগিয়ে আসতে হবে। পরিবারে এমন এক নিরাপদ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেন সন্তান যে কোনো পরিস্থিতিতে নিঃসংকোচে তার মনের কথা বাবা-মায়ের কাছে খুলে বলতে পারে। এই আস্থার পরিবেশই তাকে ভুল পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখবে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
একটি সন্তানের জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি হলো পরিবারের মানসিক শান্তি। সন্তান যখন নিশ্চিতভাবে জানে যে—সে হারুক বা জিতুক, সফল হোক বা ব্যর্থ—তার পিতা-মাতা সবসময় ছায়ার মতো তার পাশে আছেন, তখন তার ভেতরের সব ভয় কেটে যায়। এই নিশ্চয়তা ও সাহস তাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায় এবং ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
প্রকৃতপক্ষে, পিতা-মাতাই হচ্ছেন সন্তানের ভবিষ্যতের সফলতার প্রধান উৎস ও বাতিঘর। তাই পিতা-মাতার উচিত সবসময় সন্তানকে ভুল না বুঝে তার মনের প্রতিটি না-বলা কথা, প্রতিটি অব্যক্ত কষ্ট ধৈর্য ধরে শোনা এবং অনুভব করা। এই অকৃত্রিম মানসিক সাপোর্ট ও ভালোবাসাই সন্তানকে জীবনের কঠিন পথগুলো খুব সুন্দরভাবে পাড়ি দিতে এবং চূড়ান্ত সফলতার শিখরে পৌঁছাতে অবিরাম শক্তি যোগাবে।
লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি।



