ট্রিগার ইস্যু দিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত জাতিসংঘ তদন্তের দাবি মিথ্যা, টার্গেট নির্বাচন বানচাল
সালাহউদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
কোনো দেশের হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘ তদন্ত করতে পারে না। ‘হাদি ইস্যু’ সামনে এনে রাজপথে নেমে মূল টার্গেট নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা৷ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যেন কোনো দেশের রাজনৈতিক নেতা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘ করতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের কার্যপরিধি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন দাবি। বাস্তবতা হলো, কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘ সরাসরি করতে পারে না।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘ কেবল তখনই তদন্তে সম্পৃক্ত হয়, যখন কোনো রাষ্ট্র নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় অথবা বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম পর্যায়ে পড়ে যেমন গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধ। একক কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, তা যত আলোচিতই হোক না কেন, জাতিসংঘের তদন্তের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
হাদি ইস্যু উপলক্ষ, আসল লক্ষ্য ভিন্ন বর্তমানে যাদের দেখা যাচ্ছে ‘হাদি ইস্যু’ সামনে রেখে রাজপথে অবস্থান নিতে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে সেটি মূলত একটি ট্রিগার ইস্যু। মানবিক আবেগকে কাজে লাগিয়ে মাঠে নামলেও তাদের প্রকৃত এজেন্ডা সেখানে সীমাবদ্ধ নয়। হাদি ইস্যু এখানে মুখ্য নয়। এটি ব্যবহার করা হচ্ছে জনমত উত্তপ্ত করতে। আসল লক্ষ্য আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা।
রাজপথের ভাষণ, স্লোগান ও কর্মসূচি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাকে কেন্দ্র করেই তাদের আক্রমণের মূল ফোকাস। অর্থাৎ, নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করাই এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।
জাতিসংঘের নাম ব্যবহার করে আন্দোলনকে বৈশ্বিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হলেও বাস্তবে সেটি কার্যকর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং এই কৌশল দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত বা বিতর্কিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং এই ইস্যুতে জাতিসংঘের কোনো হস্তক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না। ফলে যারা জাতিসংঘকে সামনে রেখে রাজনীতি করছে, তারা মূলত জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি করছে।
জাতিসংঘ কোনো রাষ্ট্রে তখনই সক্রিয় ভূমিকা নেয় যখন সেখানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত গৃহযুদ্ধ, গণহত্যা বা রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সেই মানদণ্ডে পড়ে না। ফলে “জাতিসংঘ আসছে” এই প্রচারণা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মাঠে যে আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি চলছে, তা আপাতদৃষ্টিতে মানবাধিকার বা বিচার চাওয়ার ভাষায় উপস্থাপন করা হলেও জাতিসংঘের নাম ব্যবহার করে জনমত গঠনের চেষ্টা চলছে। এটি মূলত আন্তর্জাতিক ইস্যুকে দেশীয় রাজনৈতিক সংকটে টেনে আনার একটি কৌশল।জাতিসংঘের নাম ভাঙিয়ে রাজপথে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, তাদের কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি।



