Logo
Logo
×

মতামত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নৈতিক আদর্শ বড়, না ক্ষমতা

Icon

এম এ আলীম সরকার

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নৈতিক আদর্শ বড়, না ক্ষমতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন জমা দেওয়ার আগে রাজনীতির চিত্র দেখা গেল, বাংলাদেশের রাজনীতির আদর্শ কী এবং কেন এদেশের মানুষ রাজনীতি করে। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের ও নেতৃত্বের ন্যূনতম আদর্শ নীতি নেই, তা সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে। এদের রাজনীতি শুধু যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়া। 

এদেশের মানুষ রাজনীতি করে শুধু নিজের ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের জন্য, জনগণের সর্বজনীন কল্যাণের জন্য নয়। বাংলাদেশে দুটি রাজনৈতিক আদর্শিক ও সাংগঠনিক দল হিসেবে জনগণের কাছে স্বীকৃত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দুটি দলের একটি ডান এবং অন্যটি বাম। জনগণের কাছে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ, নীতি ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সাধারণ জনগণের কথা বললেও দলটি সিভিল সোসাইটির ন্যায় পরিচালনার জন্য দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্রমান্বয়ে সাংগঠনিক দিক দিয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। 

জামায়াতে ইসলামীকে শক্তিশালী করার পিছনে প্রধানত বাম সংগঠনগুলো এবং আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জামায়াতের বিরুদ্ধে যত নেতিবাচক আক্রমণ করা হয়েছে, জামায়াত তত শক্তিশালী হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, তাদের দলও আর মওদুদের আদর্শে নেই। বাস্তবে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামী ইসলামকে আর আগের মতো অবলম্বন করে চলছে না। তাদের ইসলাম অনেকটা মুসলিম লীগের ইসলামের মতো হয়ে যাচ্ছে। 

আসলে বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিজ্ঞানসম্মত নীতি ও আদর্শ অবলম্বন করা দরকার। গণতন্ত্রী ও সমাজতন্ত্রীদের এ বিষয়ে গভীর চিন্তা ও চর্চা দরকার। নৈতিক প্রশ্নে প্রকৃতপক্ষে এই দুই ধারার কোনোটিরই স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিচ্ছন্ন ধারণা নেই। জনগণ জামায়াতের কর্মকাণ্ডে বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে চায়। আসলে বিজ্ঞানবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি, কর্মসূচি ও কার্যক্রম মঙ্গলকর হয় না। বিজ্ঞানের অপব্যবহার আছে এবং তা হয়ে থাকে মূলত নীতিহীন রাজনীতিবিদদের দ্বারা। 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সজ্জন নম্র মিষ্টভাষী একজন ভদ্রমানুষ। তিনি রাজনীতিতে উদারনীতি গ্রহণ করেছেন, সেক্ষেত্রে ডা. শফিকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। 

জামায়াতে ইসলামী এখন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হিন্দু কমিটি গঠন করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নন্দী কৃষ্ণকে নমিনেশন দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্য সম্প্রদায়ের লোককে নমিনেশন দিয়ে বিশ্বের কাছে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। 

সম্প্রতি সময়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দ্বিমুখী আচরণের নীতি অবলম্বন করছে, যা তাদের দলের দর্শন ও ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হয়েছে বলে মনে হয় এবং কর্মীদের চেতনার সাথেও। জামায়াতে ইসলামীর ধর্মনির্ভর রাজনীতির আসল চরিত্র ফুটে উঠেছে। তাদের দলের শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও তাদের এখন মুখ্য উদ্দেশ্য হলো যেনোতেনোভাবে ক্ষমতায় যাওয়া। 

মওদুদের প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী দলের আদর্শের চেয়ে ক্ষমতা বড় দেখা দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের নেতৃবৃন্দের কাছে। এর পিছনে পশ্চিমা কর্তৃত্ববাদীদের হাত রয়েছে বলে মনে হয়। তবে তাদের উচিত দলের গঠনতন্ত্র পুনর্গঠন করে অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে জনগণের কাছে প্রকাশ করা। কতিপয় কিছু লোক নিজের দল বিলুপ্তি করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। আবার মেজর আক্তারুজ্জামান বিএনপিতে নমিনেশন না পাওয়ার কারণে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করছে। এলডিপির একাংশের মহাসচিব রেদোয়ান আহমদ দল ত্যাগ করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে এবং দলের সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর জোটে যোগ দিয়েছে। 

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে এবং দলের সভাপতি নুরুল হক নুর বিএনপির জোটে আছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত হয় এনসিপি। এনসিপি ও এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করে। কিন্তু এনসিপি জোট গঠন করা সত্ত্বেও তাদের আদর্শ ও উদ্দেশ্য পরিহার করে একবার বিএনপিতে, আরেকবার জামায়াতের সঙ্গে আসন দরকষাকষি করার পর বিএনপি থেকে প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ার কারণে জামায়াতে ইসলামী জোটে যোগ দিয়েছে। 

বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে হয়েছে। জোটের শরিকদের যে কয়েকটি আসন ছেড়ে দিয়েছে, এটি তাঁদের দলের বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছে। যদিও ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির রাজনীতির নেতৃত্ব খুবই দুর্বল ছিল। বিএনপি রাজনীতিতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করলে দেশে এত ক্ষতি হতো না এবং মব সহিংসতা সৃষ্টিতে ভয়ংকর রূপ নিত না। বিএনপি বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল। এদেশকে এবং দেশের মানুষকে রক্ষা করা বিএনপির গুরুদায়িত্ব ছিল। এটি জাতির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিএনপি জাতির এ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। 

গত ১৫ মাসে দেশে যেভাবে মব সহিংসতা হয়েছে, যেভাবে রাষ্ট্র চলছে, একে রাষ্ট্র বলা যায় না। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে মব সহিংসতাকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উৎসাহিত করেছে। যা এ সভ্যসমাজে একেবারেই অনুচিত এবং জাতির জন্য হতাশাব্যঞ্জক। ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে যেতে বাধ্য হন। ৫ আগাস্টকে বিপ্লব বলা হয়েছে এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সব পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় ফলাও করে লেখা ও প্রচার করা হয়েছে। 

আমরা কমবেশি সবাই জানি, বিপ্লব এবং স্বাধীনতা কী এবং কাকে বলে? কিন্তু আমরা সবাই জানার পরেও এই মিথ্যা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেনি ও কলম ধরেনি। এখন বিপ্লব আর দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশ শব্দ কোনো পত্রিকা ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় দেখা যায় না। প্রকৃতির নিয়মেই তা লেখা বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি সময়ে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে। এ সবই ভুল বার্তা দিচ্ছে। আমরা নতুন বাংলাদেশ নয়, সম্প্রীতিময় উন্নতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরে আমরা আশা করেছিলাম, সত্য-ন্যায়ের সংস্কৃতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু গত ১৫ মাসে এই সরকারের শাসনে যে অপসংস্কৃতি ও মব সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একজন সৎ সাহসিক সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদ কথা বলার সাহস রাখেনি। 

যার ফলশ্রুতিতে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী অফিস পুড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রথিতযশা সাংবাদিক নিউ এজ এর সম্পাদক নুরুল কবীর শারীরিকভাবে হেনস্তার স্বীকার হয়েছেন। সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সংস্থার নিকট হামলার তথ্য থাকার পরও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ এই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সহায়তা করেছে এবং এখনও এই সরকার সহায়তা পাচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকরাও এই মব সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। দেশে প্রয়োজন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাবমুক্ত সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার। গণতান্ত্রিক সরকার না থাকার কারণে অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে কেউ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ করছে না। অর্থনীতির অবস্থা একবারেই ভঙ্গুর। এর ফলে দেশে দিনে দিনে বেকার সমস্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যুবসমাজ খুবই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

চলমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাধারণ জনগণের নিকট আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জাগ্রত হয়েছে, রাজনীতিবিদদের কাছে নৈতিক আদর্শ বড়, না ক্ষমতা? স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এসেও এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট ও আশাব্যঞ্জক উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আদর্শের রাজনীতি ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, আর ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি হয়ে উঠছে প্রধান চালিকাশক্তি। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির মধ্যেও কিছুটা রাজনীতি থাকে, কিন্তু বাংলাদেশে সেটাও খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজনীতিতে আর রাজনীতি নেই, এখন একেবারেই শূন্যের কোঠায়।

রাজনীতি আদর্শহীন হলে, তা জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল আদর্শনির্ভর। তখন রাজনীতির মূল প্রেরণা ছিল ন্যায়, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার। ব্যক্তিগত ক্ষমতার চেয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থই ছিল মুখ্য।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আদর্শিক রাজনীতির জায়গা দখল করেছে ক্ষমতার রাজনীতি। আজ অনেক রাজনীতিবিদের কাছে রাজনীতি মানে জনগণের সেবা নয়, বরং ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের একটি কার্যকর মাধ্যম। ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় টিকে থাকাই হয়ে উঠেছে প্রধান লক্ষ্য। তা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের আসল চরিত্র ফুটে উঠেছে। 

ক্ষমতার প্রতি এই অতিরিক্ত আসক্তি রাজনীতিতে নানা নেতিবাচক প্রবণতা সৃষ্টি করেছে। দলীয় স্বার্থ রক্ষায় নৈতিকতা বিসর্জন, ভিন্নমত দমনে অসহিষ্ণুতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি সবকিছুর মূলে রয়েছে ক্ষমতা হারানোর ভয় এবং ক্ষমতা ধরে রাখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। আদর্শের সঙ্গে আপস করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে হবে, এমন মানসিকতা রাজনীতিকে করেছে জনবিচ্ছিন্ন।

দেশে এখনও কিছু রাজনীতিবিদ আছেন, যারা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নৈতিকতা ও আদর্শ আঁকড়ে ধরে রাখতে চান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা সংখ্যায় খুবই কম এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির চাপে অনেক সময় কোণঠাসা হয়ে পড়েন। আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদদের জন্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ মোটেই সহায়ক নয়। রাজনীতিতে নৈতিক আদর্শ দুর্বল হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রাষ্ট্র পরিচালনায়। আইনের শাসন দুর্বল হয়, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না, আর সাধারণ মানুষ হারিয়ে ফেলে আস্থা। জনগণ তখন রাজনীতিকে ঘৃণার চোখে দেখে, রাজনীতিবিদদের মনে করে ক্ষমতালোভী এক আলিগার্কি, যারা নিজেদের স্বার্থেই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী? প্রথমত, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্র ও নৈতিক চর্চা জোরদার করতে হবে। নেতৃত্ব নির্বাচনে আদর্শ, সততা ও ত্যাগের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে আদর্শিক শিক্ষা দিয়ে, যাতে তারা রাজনীতিকে পেশা নয়, সেবার ক্ষেত্র হিসেবে দেখতে শেখে। তৃতীয়ত, জনগণকেও সচেতন হতে হবে। নৈতিকতাহীন ক্ষমতালোভী রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

 আমরা যদি আদর্শকে ক্ষমতার ওপরে স্থান দিতে পারি, তাহলে রাজনীতি আবারও মানুষের আস্থা ও সম্মানের জায়গা হয়ে উঠবে। তা না হলে, ক্ষমতার রাজনীতি আমাদের আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। দেশের সর্বজনীন কল্যাণে ক্ষমতার চেয়ে আদর্শের প্রতি রাজনীতিবিদরা মনোনিবেশ করলে সম্প্রীতিময় উন্নতিশীল বাংলাদেশ গড়ে ওঠবে। আসলে রাষ্ট্র ও জনজীবন পরিচালিত হয় সরকার দ্বারা। আধুনিক রাষ্ট্রে সরকার গঠিত হয় রাজনৈতিক দলের দ্বারা। বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতির জন্য রাজনৈতিক অবস্থার উন্নতি অপরিহার্য।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সভাপতি, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন