ডিম একটি জনপ্রিয় সকালের খাবার। এটি সহজে তৈরি করা যায়, দামেও সাশ্রয়ী এবং এতে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ডিম সেদ্ধ, ভাজা বা অমলেট হিসেবে খাওয়া যায়। ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত পেশি মেরামত করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, চোখের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে চান, তাদের জন্য ডিম একটি ভালো খাবার হতে পারে। তবে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো, প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ? চলুন জেনে নিই—
দিনে কতগুলো ডিম খাওয়া যায়?
অনেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি আস্ত ডিম খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং পুষ্টির চাহিদার ওপর নির্ভর করে এর চেয়ে বেশি ডিম খাওয়াও উপযুক্ত হতে পারে। সবার জন্য প্রযোজ্য এমন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
ডিমের কুসুমে খাদ্যগত কোলেস্টেরল থাকে। তবে খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করা কোলেস্টেরল সবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রায় একইভাবে প্রভাব ফেলে না। অন্যদিকে, সামগ্রিক খাদ্যতালিকায় থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে।
তাই শুধু কতগুলো ডিম খাচ্ছেন, সেটির ওপর গুরুত্ব না দিয়ে ডিমের সঙ্গে আর কী কী খাবার খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
জেনে নিন ডিম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা
উচ্চমানের প্রোটিন সরবরাহ করে
ডিমে নয়টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিডই রয়েছে। তাই এটি সম্পূর্ণ প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। প্রোটিন পেশি গঠন ও মেরামতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ডিমের কুসুমে কোলিন নামের একটি পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম, স্মৃতিশক্তি এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্যও কোলিন বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।
চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
ডিমে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এই উপাদানগুলো চোখের রেটিনায় জমা হয় এবং চোখকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি সুস্থ রাখতেও এগুলো ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে
ডিমে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এগুলো শক্তি উৎপাদন, হাড়ের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বেশি ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বেড়ে যায়?
ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকে বলে হৃদযন্ত্রের ওপর এর প্রভাব নিয়ে অনেকের উদ্বেগ রয়েছে। তবে গবেষণা অনুযায়ী, ডিম খাওয়া এবং হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক বেশ জটিল।
অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই হতে পারে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খাবার থেকে গ্রহণ করা কোলেস্টেরল রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা তুলনামূলক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।
যাদের LDL কোলেস্টেরল বেশি, পারিবারিকভাবে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে বা হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি, তাদের ডিম খাওয়ার পরিমাণের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
ডিমের সাদা অংশ কি পুরো ডিমের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর?
ডিমের সাদা অংশ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। এতে ফ্যাট ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ খুবই কম। যারা ক্যালরি বা খাদ্যগত ফ্যাটের পরিমাণ সীমিত রেখে প্রোটিন গ্রহণ বাড়াতে চান, তাদের জন্য ডিমের সাদা অংশ উপকারী হতে পারে।
তবে কুসুম বাদ দিলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও বাদ পড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে কোলিন, ভিটামিন ডি এবং লুটেইন।
পুরো ডিমে সাদা অংশের তুলনায় বেশি ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তাই আপনি যদি সুস্থ থাকেন এবং বিশেষ কোনো খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ না থাকে, তাহলে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই।
সূত্র: এনডিটিভি



