Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ

জলবায়ু ঝুঁকিতে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ, তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশ-আফগানিস্তানে

Icon

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

জলবায়ু ঝুঁকিতে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ, তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশ-আফগানিস্তানে

খরা, বন্যা ও দাবদাহসহ জলবায়ুজনিত বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে প্রায় ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

ঝুঁকিপূর্ণ এই জনগোষ্ঠীকে পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তার জন্য আরও বেশি অর্থায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের (কপ৩১) আগে ইউএনএইচসিআর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাতে আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের আগে জাতিসংঘ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা জানাচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ভয়াবহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বসবাস করছেন।

এই তথ্য যুদ্ধ, আশ্রয়চ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রকাশ্যে এনেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশনস) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত জনগণের টিকে থাকার মূল লড়াই এখন জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, তাদের জন্য জলবায়ু অর্থায়ন পৌঁছানো জরুরি।’

প্রতিবেদনে সুদানের এক শরণার্থীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়, যিনি ২০২৩ সালের জুনে আল-ফাশিরে যুদ্ধের সময় পালিয়ে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। তিনি জানান, প্রচণ্ড তাপদাহে আশেপাশের নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মাঝে মাঝে প্রায় এক সপ্তাহ বিশুদ্ধ পানি খেতে পারেননি তিনি। বিকল্প উৎসের জন্য অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হয়।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে বাস্তুচ্যুত মানুষের স্থায়ীভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ২০২৬ সালের প্রথম ভাগে এমন সব দেশে ফিরেছেন যেগুলো নিজেরাই মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ফলে তাদের আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সিরিয়ায় সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ফিরে এসেছেন। অথচ সেখানে মানুষ চরম পানি সংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মধ্যে বসবাস করছেন। আবার গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর বন্যায় সেখানে অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ইউএনএইচসিআর আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া অনেক দেশে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে এবং নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের শেষদিকে পূর্ব আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যায় সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।

বর্তমানে মোট জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশ সংঘাতপূর্ণ ও বিপদগ্রস্ত দেশগুলোতে পৌঁছায় বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

এ অবস্থায় কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশ ও অর্থদাতা সংস্থাগুলোকে অভিযোজন তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন