Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

Icon

যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। তবে সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর নতুন করে হামলার দাবি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনের শুরুতে প্রায় ১ শতাংশ কমে যাওয়ার পর তেলের দাম ঘুরে দাঁড়ায়।  বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪০ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ১১৬.২৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩০ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.০৭ ডলারে পৌঁছায়।

সোমবার দিনের শুরুতে দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে সোমবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চার দেশ আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেব বলেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় তেলের দাম এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনায় দিনের শুরুর দিকে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনো নাজুক। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলার দাবি করেছে। এতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। সোমবারও দাম ১১৭ ডলারে পৌঁছেছিল।

ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি যেসব সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে, সেগুলোর মধ্যে চলতি অক্টোবর মাসে এ অঞ্চলে হামলার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

এএনজেড রিসার্চের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরবরাহ, পরিবহনব্যবস্থা, মজুত ও তেল পরিশোধন—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হওয়ায় তেলের বাজার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো কমেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের প্রবাহ স্বাভাবিক মাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম রয়েছে।

কূটনৈতিক আলোচনা তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন