হাজারো বিক্ষোভকারী নিয়ে দিল্লির রাস্তায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে রাজধানী দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা। সোমবারের (১২ অক্টোবর) এ কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে যোগ দেন হাজারো মানুষ। নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন, সংবিধান রক্ষা ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন রাহুল।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এই বিক্ষোভ-মিছিলে কনট প্লেস থেকে মান্ডি হাউস পর্যন্ত সড়কে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। বিক্ষোভ ঘিরে পুরো দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মিছিলের আগে বিরোধী নেতারা কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থলের কাছে জড়ো হন।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ব্যানারে আয়োজিত এ মিছিলের নাম দেয়া হয়েছে ‘চলো দিল্লি—গণতন্ত্রের জন্য মিছিল’। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরালো হলো এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
এর আগে সোমবার সকালে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন না আসা, সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের লড়াই চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করুন, রাজসাক্ষী হয়ে যান। আপনি (কুমার) ভুল করেছেন, কিন্তু এই ভুলের মূল পরিকল্পনাকারী আপনি নন।’
অভিযোগের কারণে জ্ঞানেশ কুমার চাপে রয়েছেন বলেও দাবি করেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না। আমি তাকে সরাসরি বলছি, ‘আপনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে টিকে থাকতে পারবেন না’।’
এসময় রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে সব নাগরিককে মিছিলে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার যুক্তি, এ বিরোধের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থ জড়িত নয়; বরং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোট এর আগে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছিল। জবাবে তিনি আবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রাহুল লেখেন, ‘আমরা প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি আমাদের আবেদন জমা দিতে বলেছেন। এখন ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করবেন এবং আবেদন জমা দেবেন।’
মিছিলে সরাসরি যোগ দেয়ার পাশাপাশি যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই সমর্থন জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।
রাহুল লেখেন, ‘গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার এই লড়াইয়ে দেশবাসী, আসুন আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিলে হাঁটুন। কনট প্লেসে এসে এই মিছিলে যোগ দিন। আসতে না পারলে, যেখানে আছেন সেখান থেকেই আওয়াজ তুলুন!’ এ বার্তার সঙ্গে তিনি ‘চলো দিল্লি’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব ভারতীয়কে আমাদের সমর্থন জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। বিজেপির লোকজনেরও যদি মনে হয়, সংবিধানের ওপর আঘাত আসছে, তাহলে আপনারাও আসুন। এটি সংবিধান রক্ষার লড়াই, আপনাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।’
রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধীরা একই সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক লড়াই চালাচ্ছে। সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা। রাজনৈতিক চাপের মুখে ভারতীয়রা যে ভয় পাবে না, তা-ও দেখাতে চান বিরোধীরা।
রাহুল বলেন, ‘আমরা চাই, ভারত বিশ্বাস করুক—ভারত কোনো কিছুকেই ভয় পায় না। নরেন্দ্র মোদিকে বাদই দিন, ভারত কাউকেই ভয় পেতে পারে না। আমরা একসঙ্গে একাধিক লড়াই করছি। সব ক্ষেত্রেই আমরা জিতছি।’
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, সোমবারের মিছিলের মধ্য দিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন শেষ হবে না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে জনগণকে আন্দোলনে যুক্ত রাখতে হবে। তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আগে থেকেই প্রতিবাদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে যে ব্যাপক পরিসরে রাস্তায় বিক্ষোভ হচ্ছে, আগে তা দেখা যায়নি।
কংগ্রেসের সাবেক এই সভাপতি আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরে লেগে থাকার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা রাতারাতি সম্ভব নয়।
বিক্ষোভকে ‘তাণ্ডব’ হিসেবে বর্ণনা করেন রাহুল গান্ধী। হিন্দুধর্মে দেবতা শিবের সঙ্গে যুক্ত এ শব্দ ব্যবহার করে তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নিতে ইচ্ছুক যে কেউ যোগ দিতে পারেন। রাহুল বলেন, ‘এটি শিবের নৃত্যের মতো, আর যে কেউ শিবের ‘বরযাত্রায়’ যোগ দিতে পারেন। এই লড়াই থামবে না। প্রয়োজনে কয়েক দিন কিংবা কয়েক বছর ধরে চলবে।’



