যুক্তরাষ্ট্রে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৮ জনকে হত্যা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে ভয়াবহ এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাড়িতে গর্ভবতী নারী, শিশু ও আত্মীয়সহ মোট আটজনকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করার পর ৪৫ বছর বয়সি বন্দুকধারী নিজেও আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরি শহরের পুলিশ প্রধান রিক লোরা জানান, নিহত আটজনের মধ্যে সাতজনই হামলাকারীর নিকটাত্মীয় এবং অষ্টমজন ছিলেন নিহত গর্ভবতী নারীর এক বন্ধু।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে এই তাণ্ডব শুরু হয়। উদ্ধার করা অডিও ও ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে দেখা যায়, ঘরের ভেতর থেকে গুলির অস্পষ্ট শব্দ আসার পরই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দুই নারী দৌড়ে এসে দরজায় আঘাত করতে থাকেন। সে সময় বন্দুকধারী ঘর থেকে বের হয়ে তাদের দিকে ধেয়ে আসেন এবং দুজনকে গুলি করে হত্যা করে পুনরায় ঘরের ভেতরে ঢুকে যান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। শুরুতে পুলিশ সদস্যরা বাইরে দুই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রথমে ভেতরে রোবট ও ড্রোন পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ভেতরে প্রবেশ করে প্রথম তলায় ১ বছর বয়সি এক কন্যাসন্তান ও ৫ বছর বয়সি এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিঁড়ির কাছে মিলিয়ে আরও দুই নারী ও দুই তরুণ যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় তলা থেকে অভিযুক্ত বন্দুকধারীর নিজের গুলিতে নিহত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থলের ট্র্যাজেডি তুলে ধরে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ঘরের ভেতরের দৃশ্য নিয়ে বিশদ বর্ণনা দিচ্ছি না। তবে এই ঘটনাটি কতটা মর্মান্তিক এবং আমাদের পুরো কমিউনিটির ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা সবাইকে অনুধাবন করতে হবে।’
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে বাইরে নিহত হওয়া দুই নারীর মোবাইলফোন ঘেঁটে এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। পুলিশ জানায়, বন্দুক শনাক্তকরণ এআই প্রযুক্তি ‘শটস্পটার’-এর সংকেত পেয়ে পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছায়। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযানে সোয়াত টিমের ফ্ল্যাশ ব্যাং ও কেমিক্যাল মুনিশন ব্যবহারের শব্দকে অনেকে নতুন গুলির শব্দ বলে ভুল করেছিলেন।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জোশ শাপিরো এবং ইরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা অ্যাটর্নি এলিজাবেথ হার্জ।
পরবর্তীতে এক সমাবেশে গভর্নর শাপিরো দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকের দিনটি পুরো অঙ্গরাজ্যের জন্যই এক চরম অন্ধকারের দিন।’
সূত্র: সিএনএন



