Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ কী, কেন গঠন করলেন ট্রাম্প?

Icon

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ কী, কেন গঠন করলেন ট্রাম্প?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার তদারকিতে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর নাম দিয়েছেন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’ (এসআইএফ)। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনকে এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন এ প্রযুক্তির উন্নয়নে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করাই নতুন এই বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে এআই-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্বও থাকবে এসআইএফের।

ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়, ভোক্তা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের যোগাযোগ সমন্বয় করবে এই টাস্কফোর্স।

এতে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পারসোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপারও থাকবেন। টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে।

‘এআই’ থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’

ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগের সঙ্গে এআইয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও যুক্ত রয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি।

সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ‘এআই’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘এসআই’ বা ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে ‘নকল’ বা ‘কৃত্রিম’ বলে মনে করায়। তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এ নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বলতে আরও উন্নত ধরনের প্রযুক্তি বোঝাতে পারে, ফলে এ নাম ব্যবহার বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক অবশ্য ট্রাম্পের নতুন পরিভাষাকে সমর্থন করেছেন। রোববার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্ম ‘স্পেসএক্সএআই’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্সএসআই’ করা হবে। তিনি বলেন, ‘স্পেসএক্স একটি সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি।’

কে এই জে ক্লেটন?

জে ক্লেটন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়কারী জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। গত আগস্টে তিনি এ পদে যোগ দেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

এর আগে তিনি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যানও ছিলেন।

সিনেটের শুনানিতে এআই নিয়ে কথা বলার সময় ক্লেটন এটিকে একইসঙ্গে ‘বড় সুযোগ’ ও ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘যখন কোনো কিছু একইসঙ্গে সুযোগ ও হুমকি—তখন সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ার মার্ক ওয়ার্নার। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই ব্যবস্থার জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধিতা করেছে।

ওয়ার্নার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন চীন ও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকে, উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো যায় এবং কঠোর পরীক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয়ে তিনি ক্লেটনের সঙ্গে কাজ করতে চান।

এআই নিয়ে চাপ বাড়ছে

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা প্রযুক্তিটির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।

গত ৪ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা এত বেশি যে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যেতে পারে। তার মতে, প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।

তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এআইয়ের ওপর কঠোর সরকারি নজরদারির আহ্বান অনেকটাই প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প এআইয়ের উন্নয়ন তদারকি ও সম্ভাব্য ক্ষতিকর ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য একজন ‘এআই জার’ এবং একটি আলাদা ‘এআই ফোর্স’ গঠনের কথা জানিয়েছিলেন। পরে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

এ ছাড়া, ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পসহ শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ছয় নির্বাহী একটি এআই চুক্তিতে সই করেন। এতে প্রযুক্তিটি নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নজরদারি ব্যবস্থা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

ট্রাম্পের প্রশাসন অবশ্য এআই উন্নয়নকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রথম দফার মেয়াদে এআই ও ক্রিপ্টোকারেন্সিবিষয়ক ‘জার’ পদটি তৈরি করা হয়েছিল। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ও প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ডেভিড স্যাকস ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। বিশেষ সরকারি কর্মী হিসেবে তার নিয়োগের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি পদটি ছাড়েন।

এরপর থেকেই এআই তদারকিতে নতুন দায়িত্বের জন্য ক্লেটনের নাম আলোচনায় ছিল। সেপ্টেম্বরে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ক্লেটনকে ‘ভালো মানুষ’ উল্লেখ করে তাকে এআই জার করার সম্ভাবনাকে ‘ভালো ধারণা’ বলেছিলেন।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন