জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল শহরের তালিকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর। ফাইল ছবি
ভৌগোলিক-স্থানিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রতিষ্ঠান আলফা-জিও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বড় শহরগুলোর সক্ষমতা নিয়ে মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। মূল্যায়নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতায় সর্বনিম্ন তালিকার প্রথম সারিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশের দুই শহর। তালিকার চতুর্থ ও নবম নম্বরেই রয়েছে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বন্যা, উপকূলীয় বন্যা, তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল ও হারিকেনের মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকির পাশাপাশি এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় শহরগুলোর অভিযোজন সক্ষমতা, অবকাঠামো, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা ও নীতিগত প্রস্তুতি বিবেচনায় নিয়ে ৭২টি শহরের তালিকা করেছে আলফা-জিও।
সেই সূচকে সর্বনিম্ন সক্ষমতার শহরগুলোর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। অর্থাৎ জলবায়ু ঝুঁকির মাত্রার তুলনায় দুর্যোগ মোকাবিলা ও অভিযোজন সক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বড় শহর হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী নাম। তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের আরেক বড় শহর চট্টগ্রামও।
আলফা-জিওর তৈরি করা এই সূচকে দেখা গেছে, সর্বনিম্ন সক্ষমতার তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারতের আহমেদাবাদ। এরপর পাকিস্তানের হায়দ্রাবাদ ও মুলতান। চতুর্থ অবস্থানে ঢাকা। তালিকায় এরপর রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, ভারতের কলকাতা, পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ ও করাচি, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং তাইওয়ানের তাইপেই।
এর বিপরীতে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে সক্ষম শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো। এরপর রয়েছে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, স্পেনের বার্সেলোনা, তুরস্কের আঙ্কারা, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেস, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস, তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুল, কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা ও কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি।
আলফা-জিওর সূচকে একটি শহরের সহনশীলতা নির্ধারণে শুধু প্রাকৃতিক বা জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করা হয়নি। বন্যা, উপকূলীয় বন্যা, তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল ও হারিকেনের মতো ঝুঁকির পাশাপাশি এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় শহরটির অভিযোজন সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই সক্ষমতা নির্ধারণে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা, নীতিগত উদ্যোগ এবং বন্যা প্রতিরোধক বাঁধ ও উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো অবকাঠামো নেয়া হয়েছে বিবেচনায়।



