Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

জাপানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, অন্তত আটজনের মৃত্যু

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

জাপানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, অন্তত আটজনের মৃত্যু

জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বর্ষণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা প্রিফেকচার। সেখানে একাধিক এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় এবং লাখো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টিতে চিবার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় প্রিফেকচারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এলাকায় ‘লেভেল ৫’ সতর্কতা জারি করে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি। শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে সতর্কতা নামানো হয়, তবে ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।

আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। চিবা ও আশপাশের এলাকায় আরও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

প্রবল বৃষ্টিতে চার লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। চিবা, ইবারাকি, সাইতামা ও গুনমা প্রিফেকচারে দুই শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় সাত হাজার যাত্রী রাত কাটান।

বন্যায় চিবার বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনাও ঘটে। ইচিকাওয়ায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কে এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। সাকুরায় গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে ৬৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। ইয়াচিও ও কাশিওয়ায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত আটজন।

যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জেআর ইস্ট জানিয়েছে, কেইয়ো, কুরুরি ও উচিবো লাইনসহ কয়েকটি রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কিছু মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়। চিবার চুও ওয়ার্ডে এক ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা ওই এলাকার সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বিদ্যুৎ সরবরাহও বিপর্যস্ত হয়। একপর্যায়ে চিবা প্রিফেকচারের প্রায় ৪৫ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য জাপানের সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে একই সময়ে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কায় স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়। চলতি সপ্তাহে জাপান, ফিলিপাইন ও চীনে একের পর এক ঝড় আঘাত হানায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন