Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইউরোপের তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

ইউরোপের তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

গত জুনের শেষভাগে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে বয়ে যাওয়া রেকর্ড-ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান থেকে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।

ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অর্থায়নে পরিচালিত নেটওয়ার্ক ‘ইউরোমমো’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া উপাত্ত অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত মৃত্যুর সিংহভাগই—অর্থাৎ প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি—ঘটেছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণদের মধ্যে। সাধারণত অতিরিক্ত গরমের কারণে হিট স্ট্রোক ছাড়াও হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যার বড় শিকার হন মূলত বয়োবৃদ্ধরা।

ইউরোমমো-এর আয়োজক সংস্থা ডেনমার্কের স্টেটেন্স সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড রয়টার্সকে বলেন, বছরের এই সময়ে এসে এ ধরনের এবং এত বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত মৃত্যু একেবারেই অস্বাভাবিক। এই উচ্চ মৃত্যুহারকে তীব্র দাবদাহ ছাড়া অন্য কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন।

বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া জুনের শেষের এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা কার্যত অসম্ভব ছিল। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এখন বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র রূপ নিচ্ছে।

ইউরোপের ২৭টি দেশের জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান থেকে সংগ্রহ করা এই উপাত্তে মূলত ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সময়ের সব ধরনের অতিরিক্ত মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যেই ফ্রান্স, স্পেন ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে গরমের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছিল। 

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহে কোনো বড় ধরনের কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব বা অন্য কোনো বিশেষ মহামারি ছিল না। ফলে ১০,৬৫০ জনের এই অতিরিক্ত মৃত্যুর পেছনে মূল কারণ যে তীব্র তাপপ্রবাহ, তা অনেকটাই স্পষ্ট।

এর আগে টানা আট সপ্তাহজুড়ে এই দেশগুলোতে মৃত্যুর গড় হার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০০ জন কম ছিল। জুনের শেষ সপ্তাহের এই তীব্র দাবদাহে ইউরোপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল স্কুল এবং ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে তাপমাত্রার আগের সব রেকর্ড ভেঙে গিয়েছিল।

ইউরোমমো আলাদাভাবে প্রতিটি দেশের অতিরিক্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, জুনের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। বেলজিয়ামের পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউট ‘সায়েনসানো’-এর মতে, ২০০০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা যেকোনো তাপপ্রবাহের তুলনায় এবারই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত পৃথক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মে ও জুন মাসের তাপপ্রবাহের কারণে শুধুমাত্র ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসেই আনুমানিক ২,৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউকে মেট অফিস এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন-এর যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে যে এই মৃত্যুর প্রায় ৪২ শতাংশেরই মূল কারণ ছিল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপমাত্রা।

সূত্র: রয়টার্স।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন