মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বুধবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার পর্যন্ত লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ২৮ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৪ সেন্ট বা ০ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে হয় ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৮৪ ডলার।
তেলবাজার বিশ্লেষক বন্দনা হারি জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন কোনো সমঝোতা না হলে বাজারে বড় ধরনের পতন আপাতত নাও দেখা যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি নয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বৈঠক হবে বলে জানিয়েছে কাতার।
চলতি বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪৫ ডলার কমেছে, যা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের WTI তেলের দাম প্রায় ৩১ ডলার কমেছে, যা ২০২০ সালের মহামারির পর সর্বোচ্চ পতন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত প্রশমনের অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা কমেছে। ফলে ২০২৬ সালের তেলের মূল্য পূর্বাভাসও কমানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৬১ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে পেট্রোলের মজুতও হ্রাস পেয়েছে। সরকারি তথ্য প্রকাশ করবে এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।



