Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ধস, দেশে কমবে কবে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ধস, দেশে কমবে কবে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর প্রাণ ফিরেছে হরমুজ প্রণালিতে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশেও জ্বালানির নিম্নমুখী বাজার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে দাম কতটা কমবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আপাতত দেশে তেলের দাম কমানোর পক্ষে নয় তারা। কারণ, বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রি করার কারণে গত চার মাসে বিপিসির লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কিনে এখনো লোকসান দিতে হচ্ছে। তবে আশার কথা, মাসিক লোকসান অনেকটা কমে এসেছে।”

তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭২ ডলার থেকে বেড়ে মে মাসে ১১৪ ডলারে পৌঁছায়। জুনে তা আবার নেমে আসে ৭৫ ডলারে। বিপিসি কর্মকর্তারা জানান, মে মাসে ৩০ হাজার টনের একটি ডিজেলবাহী জাহাজের বিল দিতে হয়েছিল ৫ কোটি ডলার, বর্তমানে একই পরিমাণ তেলের জন্য খরচ হচ্ছে ৩ কোটি ডলার। বাংলাদেশ প্রতি মাসে প্রায় ১৫টি জাহাজে তেল আমদানি করে।

বিপিসি জানিয়েছে, প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে খরচ হচ্ছে ১২৯ টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। ফলে প্রতি লিটারে লোকসান হচ্ছে ১৪ টাকা। তবে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করে লাভ হচ্ছে। বিপিসি বলছে, এনবিআর আমদানি শুল্ক হিসেবে প্রতি লিটার ডিজেল থেকে ৩৫ টাকা নিচ্ছে, যা মওকুফ করলে লোকসান কিছুটা কমানো সম্ভব।

আইএমএফ ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি মাসিক গড় ব্যয় হিসাব করে দাম নির্ধারণ করে। ২১ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী ডিজেল কেনা পড়েছে ১৫৩ টাকা, আর অকটেন ১৪৪ টাকা। এ হিসেবে ডিজেল বিক্রিতে লোকসান হলেও অকটেন বিক্রিতে লাভ হয়েছে। সরকার ১ জুলাই থেকে নতুন দাম ঘোষণা করবে।

বর্তমানে দেশে তেলের মজুত সন্তোষজনক। ২৪ জুন পর্যন্ত ডিজেলের মজুত ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার টন, যা দিয়ে ৪২ দিন চলবে। এছাড়া অকটেন, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল ও কেরোসিনেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র ও জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে আরও তেল আমদানি করবে সরকার।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা অনুযায়ী ২১ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে বিশ্ববাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই তেল আমদানির সিদ্ধান্তে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন