ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ভারতের সেনা পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ভারতের সেনা অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন প্রকাশিত বই Regime Change: Inside the Imperial Presidency of Donald Trump–এ এ তথ্য উঠে এসেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা বইটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার মাত্র ১০ দিন পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বই অনুযায়ী, বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলগ ‘ট্রাম্পস হিস্টোরিক পিস ডিল’ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এতে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের শান্তিরক্ষী সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব ছিল। তবে ভ্যান্স ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনা ব্যবহারের বিরোধিতা করেন, কারণ এতে রাশিয়া আরও উসকানি অনুভব করতে পারে। এরপর তিনি ইউরোপের বাইরে ভারতের সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্প এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ভারত এটা করবে না। এ ধরনের কিছুর জন্য তারা অর্থ ব্যয়ও করবে না।” একই সঙ্গে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে ভারত শুরু থেকেই সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-মোদির বৈঠকের পরও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “কোনো সংঘাতের সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এটি যুদ্ধের যুগ নয়।”
যদিও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে কোনো অবস্থান জানায়নি, তবে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর মন্তব্য করেছিলেন—যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ভারত সীমিত আকারে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী জাতিসংঘের অধীনে দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া ও লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি



