যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ১৪ দফা সমঝোতা
যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে দুই দেশের মধ্যকার ১৪ দফা সমঝোতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে এতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতের পর এটিকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে। একইসঙ্গে উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চুক্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করবে। এর বিপরীতে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করবে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। দেশটির বিদ্যমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে নিষ্ক্রিয় বা নিম্নমাত্রায় রূপান্তর করা হবে।
এছাড়া ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এই তহবিলে সরাসরি অর্থায়ন করবে না যুক্তরাষ্ট্র; বরং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কূটনৈতিক সহায়তা দেবে।
সমঝোতায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হবে। একইসঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফেরতের প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে, যা ইরানের চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী সময়ে এই সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির আলোচনা সম্পন্ন করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতাটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাস, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা



