পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বহু বাঙালি, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, এসব ঘটনায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) বাধা দিলে অনেক পরিবার সীমান্তের মধ্যবর্তী ‘জিরো লাইনে’ আটকা পড়ে যাচ্ছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বিএসএফের অন্তত ২১টি ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজারকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে, যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সীমান্তে আটকে থাকা পরিবারগুলোকে রাতের আঁধারে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি বাধা দিলে পরে বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে কয়েক দফা এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে নারী ও শিশুরাও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গে বহু মানুষ আটক ও বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছে। আসামের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার মতো পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, জোরপূর্বক বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী এবং খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসা ছাড়া সীমান্তে আটকে রাখা অমানবিক আচরণের শামিল।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না। নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রচলিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া মেনেই যেকোনো প্রত্যাবর্তন হতে হবে।



