ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নাকচ করল মার্কিন সিনেট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন
ইরানে নিয়োজিত মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নাকচ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৪৭-৫০ ভোটে পরাজিত হয়।
এই ভোটাভুটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর নির্ধারিত আইনি সময়সীমা আজ শুক্রবার (১ মে) শেষ হতে যাচ্ছে।
ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান দলের মাত্র দুই সদস্য সুসান কলিন্স ও কেনটাকির র্যান্ড পল দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট। যিনি প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো রিপাবলিকান সদস্য হিসেবে সুসান কলিন্স এমন প্রস্তাবে সমর্থন দিলেন। তবে প্রস্তাবটি পাস না হওয়ায় গত আট সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হলো।
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কোনো যুদ্ধে সেনা পাঠালে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য। অনুমোদন না পেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযান বন্ধ করতে হয়, যদিও নিরাপদ প্রত্যাহারের জন্য প্রেসিডেন্ট অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারেন।
গত ২ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। সেই হিসেবে আজ শুক্রবারই ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞ ও অনেক আইনপ্রণেতার মতে, এই সময়সীমা পেরিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হলে তা ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন হবে।
ভোটের পর সুসান কলিন্স বলেন, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অসীম নয়। সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ বা শান্তির বিষয়ে কংগ্রেসের অপরিহার্য ভূমিকা রয়েছে। ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো পরামর্শ নয়, এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
সিনেটের এই ভোটাভুটি থেকে স্পষ্ট হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে এখনো দ্বিধায় রয়েছেন অনেক আইনপ্রণেতা। গত দুই মাসে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ছয়বার যুদ্ধ বন্ধে ভোটাভুটির চেষ্টা করলেও প্রতিবারই তা ব্যর্থ হয়েছে।
যদিও অনেক রিপাবলিকান সদস্যও স্বীকার করছেন যে ৬০ দিনের আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড বলেন, “এটি একটি আইন এবং এটি মেনে চলা জরুরি।” আর থম টিলিস পরামর্শ দিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে ইরানে থাকতে চাইলে সরকার যেন দ্রুত কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেয়।
এদিকে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিকল্প হিসেবে তারা সীমিত আকারে যুদ্ধের অনুমোদন বা স্থলসেনা মোতায়েনে বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, প্রশাসন চাইলে অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময় নিয়ে সামরিক অভিযানের মেয়াদ বাড়াতে পারে।



