যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলগামী অস্ত্রের ২ চালান জব্দ করল বেলজিয়াম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে পাঠানোর উদ্দেশ্যে আনা সামরিক যন্ত্রাংশের দুটি চালান জব্দ করেছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ মার্চ লিজ বিমানবন্দরে চালানগুলো আটক করা হয়।
ব্রিটিশ নিউজ সাইট ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়ান এনজিও ভ্রেডেসাক্টি, আইরিশ নিউজ সাইট দ্য ডিচ এবং প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট যৌথভাবে বেলজিয়াম সরকারকে অস্ত্রের এই চালান সম্পর্কে সতর্ক করার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলজিয়ামে ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানের অবতরণ বা আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই চালান জব্দ করা হয়।
তল্লাশিতে পাওয়া যায়, চালানে ‘ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম’ ও সামরিক বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ছিল। তবে এগুলোকে ‘সাধারণ বিমানের যন্ত্রাংশ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
বেলজিয়াম সরকার তদন্ত শুরু করেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নাম প্রকাশ করেনি। তবে ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক মার্কিন অ্যারোস্পেস কোম্পানি মুগ এই চালানের সঙ্গে জড়িত। প্রতিষ্ঠানটি এম-৩৪৬ বিমানের জন্য ‘অ্যাকচুয়েটর’ তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
তদন্তে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের একটি ‘ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’-এর অধীনে যন্ত্রাংশগুলো রপ্তানি করা হয়েছিল। সেখানে এগুলোকে সামরিক নয়, বরং সাধারণ বিমানযন্ত্রাংশ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
ডিক্লাসিফাইড-এর তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরেও একই কোম্পানির কারখানা থেকে বেলজিয়ামের মাধ্যমে ইসরায়েলে মালামাল পাঠানো হয়েছিল। এ পর্যন্ত অন্তত ১৭টি চালান যুক্তরাজ্য থেকে লিজ বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করে। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কিছু সামরিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছিল।
বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের চালান পরিবহনের জন্য ট্রানজিট লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কিন্তু এবার কোনো লাইসেন্সের আবেদন করা হয়নি। আবেদন করা হলেও তা বাতিল করা হতো বলে জানানো হয়েছে।



