ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতিতে আমিরাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে আমিরাত হবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানো প্রথম পারস্য উপসাগরীয় দেশ।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব পাসের জন্য আবুধাবি জোর তদবির চালাচ্ছে। বাহরাইন এ প্রস্তাব স্পন্সর করেছে এবং বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) এ বিষয়ে ভোটাভুটি হতে পারে।
আমিরাতের সামরিক পরিকল্পনা
আমিরাত জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন অপসারণ ও সামরিক সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘আবু মুসা’ দ্বীপ দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটি নিজেদের দাবি করে আসছে আমিরাত।
ইরানিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
যুদ্ধের উত্তাপ বাড়তে থাকায় ইরানিদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করেছে আমিরাত। এমিরেটস, ইতিহাদ ও ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্স ঘোষণা করেছে, গোল্ডেন ভিসাধারী ছাড়া সাধারণ ইরানি নাগরিক আর আমিরাতে প্রবেশ বা ট্রানজিট নিতে পারবেন না। দুবাইয়ে ইরানের ঐতিহ্যবাহী ‘ইরানীয় হাসপাতাল’ ও ‘ইরানীয় ক্লাব’ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব ও ইসরাইলের অবস্থান
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তেহরানকে মোকাবিলায় তিনি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠন করছেন। অনেক আরব দেশ ইসরাইলের পাশে থেকে যুদ্ধ করার কথা ভাবছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও ইরানকে সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনে তারা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে।
বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং খাদ্য আমদানিতেও সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও আমিরাত ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।



