Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির পরই হরমুজে সহায়তা দেবে ইউরোপের তিন দেশ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

যুদ্ধবিরতির পরই হরমুজে সহায়তা দেবে ইউরোপের তিন দেশ

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী দেশ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা ‘সহযোগিতা করতে প্রস্তুত’। তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো উদ্যোগ কেবল যুদ্ধবিরতির পরেই কার্যকর হবে।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালাতে আগ্রহী।

বিবৃতিতে দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। একইসঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় যে দেশগুলো প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু করেছে, তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এই জোট।

তবে পরে বৃহস্পতিবারই ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করে জানায়, তারা এখনই কোনো সামরিক সহায়তার কথা বলছে না। বরং যুদ্ধবিরতির পর সম্ভাব্য বহুপাক্ষিক উদ্যোগের কথাই ভাবছে।

এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বোমা হামলা শুরু করলে যুদ্ধের সূচনা হয়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায়।

এ পর্যন্ত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ ২৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)’র তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে ৩ হাজার ২০০ জাহাজে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিক এখন আটকা পড়েছে।

মিত্র দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

তারা ইরানকে অবিলম্বে হুমকি প্রদান, মাইন স্থাপন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ব্যাহত করার সব ধরনের চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি, যা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনেও অন্তর্ভুক্ত।’

এতে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের এসব কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে অন্যান্য বিশ্বশক্তি ও ন্যাটোকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব নাকচ করে দিলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও আলোচনার পথ খোলা রেখেছে।

ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এক বিবৃতিতে বলেন, ছয় দেশের এই অবস্থানকে যেন ‘যুদ্ধ অভিযান’ হিসেবে দেখা না হয়। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বহুপাক্ষিক উদ্যোগ ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে কোনো প্রবেশ নয়।’ এই উদ্যোগের জন্য জাতিসংঘকে একটি আইনি কাঠামো তৈরির আহ্বানও জানান তিনি।

বার্লিনে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস জানান, জার্মানির সামরিক অংশগ্রহণ নির্ভর করবে যুদ্ধবিরতি পরবর্তী পরিস্থিতি এবং একটি আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট বা কাঠামোর ওপর। এছাড়া এতে জার্মান পার্লামেন্টের অনুমোদনেরও প্রয়োজন হবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, তার দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চায়। লক্ষ্য- ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলা। তবে তা চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার পরেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছি। আগামী কয়েক দিনে দেখা যাবে এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না।’

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান হুমকির মাত্রা এতটাই বেশি যে, কোনো দেশ এখনই সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে আগ্রহী হবে না।

তবে তিনি জানান, পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে লন্ডন থেকে অল্প সংখ্যক সামরিক পরিকল্পনাকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন