আফগানিস্তানের ৯৪ চেকপোস্ট দখলের দাবি পাকিস্তানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আফগানিস্তান সীমান্তে চরম উত্তজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে প্রতিবেশী দেশটির অন্তত ৯৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস ও দখলের দাবি করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ৭৪টি চেকপোস্ট পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৮টি চেকপোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিওনিউজের এক প্রতিবেদনে দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক বিবৃতিতে জানান, গত কয়েক দিনে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই আফগান পক্ষ থেকে যে আগ্রাসন চালানো হয়েছে, তার কঠোর জবাব দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ২৭৪ জন তালেবান সদস্য এবং তাদের সহযোগী জঙ্গি নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও চার শতাধিক সদস্য। গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যরাতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট হামলাগুলো পরিচালনা করা হয়।
আইএসপিআর-এর মহাপরিচালক আরও অভিযোগ করেন যে, আফগান তালেবান সরকার বর্তমান পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে একটি কথিত অভিযান শুরু করে এবং সীমান্তের ১৫টি সেক্টরের অন্তত ৫৩টি স্থানে পাকিস্তানি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে পাকিস্তানি বাহিনী সেই আক্রমণ কার্যকরভাবে প্রতিহত করে পাল্টা আঘাত হানে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়ার চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররম ও বাজাউরসহ একাধিক সীমান্ত পয়েন্টে তালেবান যোদ্ধাদের গুলিবর্ষণের জবাবে পাকিস্তান পূর্ণ শক্তি দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, পাকিস্তানি বাহিনীর তীব্র হামলায় আফগান বাহিনীর ১১৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার, লাগমান ও পাকতিকা প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাকিস্তান আক্রমণ চালিয়েছে। এমনকি দেশটির রাজধানী কাবুলে একটি ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড সদর দপ্তর এবং কান্দাহারে অবস্থিত একটি ব্রিগেড সদর দপ্তর পুরোপুরি ধ্বংস করার দাবি করেছে পাকিস্তান।
সীমান্তবর্তী এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও বড় ধরনের সামরিক তৎপরতার পর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এবং সীমান্তের ওপার থেকে আসা যে কোনো সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা দমনে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।



