হামলার বিষয়ে জাতিসংঘকে যা জানাল ইরান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এ অবস্থান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সায়েদ ইরভানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই চাপ। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
ইরানের রাষ্ট্রদূত লেখেন, ট্রাম্পের ‘যুদ্ধংদেহি বক্তব্য’ সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকি বাড়ায় এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তিনি বলেন, এটি শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন অবিলম্বে শক্তি ব্যবহারের ‘বেআইনি হুমকি’ বন্ধ করে তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তেহরান জানায়, তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত।
তবে চিঠিতে স্পষ্ট সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন হলে প্রতিরক্ষামূলক জবাবের অংশ হিসেবে অঞ্চলে থাকা শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার ৩৬ বছরের শাসনামলে বহুবার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমন ও বিদেশি চাপ মোকাবিলা করেছেন। তবে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলার হুমকি ঘিরে তিনি এখন সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও বিরোধিতা সুপরিচিত। এ বছর জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেছেন তিনি। এতে হাজারো মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে।
এরই মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত বছরের জুনে ইসরায়েলি হামলায় বিপ্লবী গার্ডের কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হলে খামেনিকে গোপনে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।



