বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক কোন পথে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ভূমিধস জয় পাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিসরে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ভারত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে, তবে বার্তায় ছিল সংযত সতর্কতা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমানকে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গঠনে সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই দেশের আস্থার সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে না দেওয়া এবং হাসিনার ভারতে অবস্থান—এই দুই বিষয় সম্পর্ককে আরও স্পর্শকাতর করেছে।
লন্ডনের লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়–এর রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক অবিনাশ পালিওয়াল বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় থাকা দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক মধ্যপন্থী হিসেবে বিএনপি ভারতের কাছে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প। তবে তারেক রহমানের শাসনধারা কেমন হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ভারতের কাছে বিএনপি নতুন নয়। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া–র নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে শুরুতে সৌজন্যমূলক যোগাযোগ থাকলেও দ্রুত সম্পর্কে শীতলতা আসে। ভারতের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রাজেশ মিশ্র প্রথম বিদেশি কূটনীতিক হিসেবে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু ও পারস্পরিক অভিযোগে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
২০১৪ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি–র সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিলের ঘটনায় দিল্লির অনাস্থা আরও বাড়ে। এরপর ভারত তার কৌশলগত অগ্রাধিকার প্রায় পুরোপুরি শেখ হাসিনার ওপর নির্ভরশীল করে তোলে।
বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাকে প্রত্যর্পণ না করার বিষয়টি সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ডিসেম্বরে ঢাকা সফরকালে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারেক রহমানের স্লোগান—দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ—আঞ্চলিক শক্তির প্রভাবমুক্ত থাকার ইঙ্গিত হিসেবে আলোচিত হয়।
নয়াদিল্লিভিত্তিক প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান–এর গবেষক স্মৃতি পট্টনায়ক বলেন, একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অধিকার রয়েছে। তবে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ওপি জিন্দাল বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়টিও সম্পর্কের জন্য স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। দুই দেশের সামনে এখন আস্থা পুনর্গঠনের কঠিন কিন্তু অপরিহার্য কাজ। সূত্র: বিবিসি



