হয় সমঝোতা, না হয় ‘খুব কঠিন কিছু’, ইরানকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বৈঠক চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। যদি এ বৈঠক ব্যর্থ হয়, অর্থাৎ কোনো সমঝোতায় যদি যেতে না পারেন দু’দেশের প্রতিনিধিরা— তাহলে ইরানের জন্য ‘খুব কঠিন কিছু’ অপেক্ষা করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সাক্ষাৎতকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠকের ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, হয় আমরা সমঝোতায় পৌঁছাবো, চুক্তি হবে অথবা আমাদের খুব কঠিন কিছু করতে হবে। আমাদের একটি বড় নৌবহর বর্তমানে সেখানে (মধ্যপ্রাচ্যে) অবস্থান করছে এবং সম্ভবত আরও একটি বড় নৌবহর আমরা পাঠাব
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার ধারাবাকিতাতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই এখনও।
এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ফের যুক্তিরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী সরকার নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমন করা শুরু করার পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হয়েছে ইরানে, ট্রাম্পও আর অভিযানের নির্দেশ দেননি।
তবে একই সময়ে, অর্থাৎ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিশাল আকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।
তবে মাস্কাটে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক এখন পর্যন্ত ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে। এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তা স্বীকারও করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “ইরান খুব করে চাইছে একটি সমঝোতা চুক্তি পৌঁছাতে এবং আমি যতদূর শুনেছি, বৈঠক মাস্কাটে আলোচনা খুব চমৎকারভাবে এগিয়ে চলছে।”
সূত্র : এএফপি



