বেলুচিস্তানে ৪০ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে ১৪৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে টানা ৪০ ঘণ্টার অভিযানে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রাজধানী কোয়েটাসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে জানা গেছে, ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার কোয়েটা, গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, নিহতদের মধ্যে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শনিবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীরা সবাই সাধারণ বেসামরিক পোশাক পরে ছিল। এই ছদ্মবেশে তারা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মিশে গিয়ে হামলা চালায়।
হামলার পরদিন ৩০ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকারের নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে।
‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশন শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরণে ধ্বংস হতে দেখা যায়।
বিএলএ দাবি করেছে, এই অভিযানে তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে আটক করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হামলার দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে বিএলএর বিরুদ্ধে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে মোট ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে বলে সরকারিভাবে দাবি করা হয়।
ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই প্রদেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী আন্দোলন দমনে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ। সাম্প্রতিক এই অভিযান তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তান সরকারের দাবি অনুযায়ী, এর আগে এত অল্প সময়ের অভিযানে এত বেশি সংখ্যক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হওয়ার ঘটনা দেশটির ইতিহাসে আর নেই।
সূত্র : রয়টার্স



