Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

আলজাজিরার বিশ্লেষণ

কোন দিকে যাচ্ছে ইরান, সরকার পরিবর্তন কি অবশ্যম্ভাবী?

Icon

অনলাইন ডেস্ক :

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

কোন দিকে যাচ্ছে ইরান, সরকার পরিবর্তন কি অবশ্যম্ভাবী?

ছবি : সংগৃহীত

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, দৃশ্যত শান্ত পরিস্থিতির অন্তরালে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং অর্থনৈতিক ধস ইরানকে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ জানিয়েছেন, বর্তমান স্থিতাবস্থা কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী নয়। যদি তেহরান বড় ধরনের কোনো সংস্কার বা পরিবর্তনের পথে না হাঁটে, তবে দেশটির পতন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থনীতির চাকা সচল করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়। গত এক দশকে মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়া, তেল রপ্তানি হ্রাস এবং ৪০ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানির তীব্র সংকট। আগেকার বিক্ষোভগুলোর পর সরকার কিছু সামাজিক ছাড় বা ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও, এবার সেই আর্থিক সক্ষমতাও সরকারের নেই। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসন এখন আগের চেয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়েছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (অক্ষশক্তি) নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে হবে।

আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য এই শর্তগুলো মেনে নেওয়া বেশ কঠিন, কারণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনই ইরানের ‘প্রতিরক্ষা বলয়’ হিসেবে পরিচিত। তবে লেবাননের হিজবুল্লাহর দুর্বল হওয়া, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন এবং প্রথমবারের মতো ইসরাইলের সরাসরি হামলার শিকার হওয়া ইরানকে তার পুরনো নীতি পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করছে। 

বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী শাবানি মনে করেন, জনগণের কাছে সরকারের বৈধতার প্রধান স্তম্ভ ছিল ‘নিরাপত্তার নিশ্চয়তা’, যা ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এখন জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

পরিবর্তন যে আসছে, তার আভাস মিলছে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামোতেও। বিশ্লেষক আলিরেজা আজিজির মতে, ইরান ইতিমধ্যে একটি ধর্মীয় নেতৃত্ব থেকে সামরিক নেতৃত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। 

খামেনি পরবর্তী সময়ে ইরানের বর্তমান রূপ আর বজায় থাকবে না বলেই অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা। সেটি কি সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো আমূল কোনো রূপান্তর হবে নাকি রাজপথে জনবিস্ফোরণের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বিশ্ব রাজনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট বলছে, ইরানে বড় ধরনের পরিবর্তন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

সূত্র: আলজাজিরা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন