২০২৬ সালে চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত: বিশ্ব অর্থনীতির আশীর্বাদ নাকি চ্যালেঞ্জ?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহ পার হতেই চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। ২০২৫ সালের শুল্ক যুদ্ধে চাপ সত্ত্বেও দেশটির রপ্তানি কমার বদলে বেড়ে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্তে পৌঁছেছে—যা বিশ্ব ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ সতর্ক করেছেন, চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত মার্কিন শুল্কের চেয়েও মুক্ত বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। তাঁর মতে, চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশ নয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর প্রতিযোগিতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, চীনের সাবেক গ্লোবাল টাইমস সম্পাদক হু সিজিন বলেন, চীনের রপ্তানি ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে’, কারণ দেশটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে এবং বিশ্ববাজারে সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসা করছে।
বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পেছনে মূল কারণ: শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ এবং ধীরগতির আমদানি। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আসিয়ান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি বেড়েছে রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ। অন্যদিকে, চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগ ও বিনিয়োগের ধীরতা আমদানি বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক হলো, চীনের শক্তিশালী রপ্তানি মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সহায়ক হচ্ছে এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে। তবে বিপদ হলো, চীনের অর্থনীতি রপ্তানির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতার সঙ্গে মিলিত হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা ইতিমধ্যেই সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্যের ভারসাম্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং সৌরশক্তি পণ্যে রপ্তানি শুল্ক ও কর সুবিধার পরিবর্তন এবং চীনের সাথে ইইউর সমঝোতা বিশ্বের বাজারে প্রভাব ফেলবে।
শেষ পর্যন্ত, চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ নাকি চ্যালেঞ্জ, তা নির্ভর করছে রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় কীভাবে অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য কতটা স্থির হচ্ছে তার ওপর। বাস্তব পরিস্থিতি হু সিজিনের মতো সম্পূর্ণ আশাব্যঞ্জক নয়, তবে অধ্যাপক প্রসাদের মত উদ্বেগও অতিরিক্ত নয়।
সূত্র : বিজনেজ টাইমস।



