সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ৮০০ জনের ফাঁসি স্থগিত করল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ পিএম
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে আসা তথ্যে জানা গেছে, ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে। এসব বন্দির বুধবার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে ইরানজুড়ে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর গত ৪৭ বছরে এত বড় মাত্রার আন্দোলনের মুখে পড়েনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভের মূল কারণ ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরবস্থার কারণে দেশটিতে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হিমসিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ইরানের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিদিনই আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকেও মাঠে নামানো হয়েছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ২৮ ডিসেম্বরের পর একাধিকবার এমন হুমকি দেন তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ইরানে সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা আপাতত কমে এসেছে।
সূত্র : এএফপি



