প্রায় এক দশক পর আইসিজিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৩ এএম
প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) বিচারিক শুনানি শুরু হচ্ছে। ‘বৈশ্বিক আদালত’ নামেও পরিচিত এই আদালত নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) শুনানি শুরু হবে, যা টানা তিন সপ্তাহ চলবে। রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী সংস্থা ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমারের প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১৭ সালের জুলাইয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে দায়ী করে মিয়ানমার সরকার। এর জেরে একই মাসে সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সেনা অভিযান শুরু হয়।
অভিযানের নামে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন এবং তারা এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন।
ঘটনার পর জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল তদন্ত চালিয়ে তাদের প্রতিবেদনে সেনা অভিযানের ধরনকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা দায়ের করে। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং গাম্বিয়ার মামলাকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেন। তবে ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সুচি বর্তমানে কারাবন্দি; দুর্নীতির অভিযোগে সামরিক আদালতে তার বিচার চলছে।
মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌমজিয়ান বলেন, গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণ, অভিযোগ প্রমাণের মানদণ্ড এবং এ ধরনের অপরাধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।
সূত্র : রয়টার্স



