ইসরায়েল ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিও নিষিদ্ধ, গাজায় মানবিক সহায়তায় অগ্নিসংকট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজাবাসীর জন্য মানবিক সাহায্যের সব আশা নিভে যেতে বসেছে। ইসরায়েল নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করছে, যা উপত্যকার জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ কার্যক্রমকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির মতো বড় সংস্থাও।
ইসরায়েল দাবি করেছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব সংস্থাকে তাদের কর্মী ও কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি মূলত মানবিক সংস্থাগুলোকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল। ইতিপূর্বে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গাজার বাসিন্দারা এই পদক্ষেপকে নতুন আঘাত হিসেবে দেখছেন। সিরাজ আল-মাসরি বলেন, আমাদের কোনো আয় নেই, পকেটে পানি নেই। চিকিৎসা নেওয়ার মতো মাত্র কয়েকটি জায়গা টিকে আছে। এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করবে এবং আহতদের জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। রামজি আবু আল-নীল বলেন, মানবিক সংস্থাগুলো চলে গেলে অনেক শিশু মারা যাবে, অগণিত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।
এতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। কানাডা, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্যসহ ১০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম বাধাহীন চলতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত, ১০ লাখের বেশি মানুষ শীতের মধ্যে পলিথিনের তাঁবুতে মানবিক সাহায্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ইউএনআরডব্লিউএ এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক নজির বলে অভিহিত করেছে। সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণের এই চেষ্টা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অমানবিক নয়, এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার লঙ্ঘন।



