দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫৩ শতাংশের বেশি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে পুরুষ ব্যবহারকারীর হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ব্যবহারকারীর হার ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা যায়, শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। শহরে ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এ ব্যবধান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ হলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনও সীমিত, যা মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
অঞ্চলভেদে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সবচেয়ে বেশি, আর পঞ্চগড়ে সবচেয়ে কম। কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে (৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ)। খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী। অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলক কম, মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এ সেবা গ্রহণ করেছেন।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে মৌলিক কাজের দক্ষতা বেশি দেখা গেছে। কপি-পেস্ট করার দক্ষতা রয়েছে ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে। তবে উন্নত দক্ষতায় এখনও ঘাটতি রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হলো, ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এছাড়া জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেট সেবার উচ্চমূল্য ব্যবহারের বড় প্রতিবন্ধকতা। ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, খরচ বেশি হওয়ায় তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা এবং ব্যবহারকারীদের দক্ষতা উন্নয়নই ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি।



