কয়েক মাস ধরেই চলছিল জল্পনা, গুঞ্জন আর একের পর এক নাটকীয় মোড়। কার্লো আনচেলত্তি থেকে পেপ গার্দিওলা, আন্দ্রেয়া পিরলো; একের পর এক নাম ঘুরে বেড়িয়েছে ইতালির জাতীয় দলের কোচের দৌড়ে। শেষ পর্যন্ত পুরোনো ভরসাতেই ফিরল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও আজ্জুরিদের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন রবার্তো মানচিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৬১ বছর বয়সী মানচিনি ইতালির নতুন প্রধান কোচ হতে যাচ্ছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থতার পর দায়িত্ব ছাড়েন জেন্নারো গাত্তুসো। তার শূন্যস্থানই পূরণ করবেন ইউরোজয়ী এই কোচ।
এটি হবে ইতালির ডেরায় মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায়। প্রথম দফায় ২০১৮ সালের মে মাস থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার হাত ধরেই ২০২১ সালে দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তোলে ইতালি। সেই সময় তার অধীনেই টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ডও গড়েছিল আজ্জুরিরা (ইতালি ফুটবল দলের ডাকনাম)।
তবে এবার মানচিনির প্রত্যাবর্তনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। গাত্তুসোর বিদায়ের পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) প্রথমে যোগাযোগ করে কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলার সঙ্গে। কিন্তু দুজনের কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।
এরপর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন আন্দ্রেয়া পিরলো। তাকে প্রধান কোচ করার প্রস্তুতিও এগিয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ার বেটিং প্রতিষ্ঠান ফনবেটের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সেই পরিকল্পনা থেমে যায়।
পিরলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ইতালির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি এবং তার উপদেষ্টা লিওনার্দো। কিন্তু ফেডারেশন শেষ পর্যন্ত ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন দুজনই। ফলে কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত আবারও মানচিনিতেই ফিরেছে ইতালির আস্থা। গত মাসেই কাতার স্টার্স লিগের ক্লাব আল-সাদের কোচের দায়িত্ব ছেড়েছেন তিনি। এর আগে সৌদি আরব জাতীয় দলের দায়িত্বও শেষ করেছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ইতালির ডাগআউটে ফিরেই কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন মানচিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক ব্যর্থতায় হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনে ইতালিকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সারিতে প্রতিষ্ঠিত করাই হবে তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।



