আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্বারস্থ হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বরখাস্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সংস্থাটিকে চিঠি দিয়ে নিজের অপসারণকে ‘বেআইনি’ দাবি করেছেন। সরকার তাকে অপসারণ করে তামিম ইকবালকে বিসিবির অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরদিনই এই চিঠি পাঠানো হয়।
এক বিবৃতিতে বুলবুল বলেন, নির্বাচিত বোর্ডের বৈধতা রক্ষায় আইসিসির জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তার দাবি, গঠিত অ্যাডহক কমিটি ও তদন্ত প্রতিবেদন দুটিই অবৈধ। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা সেই নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না।
এছাড়া ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনকে তিনি ‘ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালিপূর্ণ এবং আইনগত ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দেন।
বুলবুলের এই অবস্থানকে স্ববিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন আইসিসির একজন বর্তমান পরিচালক। ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যম ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, যে বিসিবি সম্প্রতি আইসিসির বাধ্যতামূলক সদস্যপদ চুক্তি উপেক্ষা করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার কারণ হিসেবে সরকারি নির্দেশনার কথা বলেছিল, এখন তারাই আবার সেই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইসিসির শরণাপন্ন হচ্ছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির সঙ্গে এক অনলাইন বৈঠকে বুলবুলই সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে ছিলেন এবং একপর্যায়ে আলোচনা ছেড়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেন। সে সময় তিনি বারবার সরকারি নির্দেশনার কথা তুলে ধরে ভারতের ভেন্যু পরিবর্তন না হলে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছিলেন।
বর্তমানে তিনি সেই সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেই আইসিসির সুরক্ষা চাইছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। আইসিসির সূত্রগুলো বলছে, এই স্ববিরোধিতার কারণে বুলবুলের অভিযোগে সংস্থাটির সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।



