Logo
Logo
×

খেলা

রাজনীতির ছায়ায় বিতর্ক নিয়েই বিশ্বকাপ শুরু, নেই বাংলাদেশ

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

রাজনীতির ছায়ায় বিতর্ক নিয়েই বিশ্বকাপ শুরু, নেই বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বহুল ব্যবহৃত একটি ডায়ালগ—‘খেলা যে চলছে কোন লেভেলে’! শব্দবন্ধটি এখন যেন রাজনীতি পেরিয়ে ঢুকে পড়েছে ক্রিকেটের আঙিনাতেও। কারণ, রাজনীতি আর খেলাধুলার সীমারেখা বহু আগেই ঝাপসা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় তো এই মিশেল নতুন কিছু নয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঢেউ নিয়মিতই এসে পড়ে ক্রিকেট মাঠে। এসব গল্প পরিচিত, বহু পুরোনো।

কিন্তু আজ পর্দা ওঠা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেই চেনা গল্পকেও ছাপিয়ে গেছে। বিতর্কের দিক থেকে এবারের আসর যেন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। মাঠের বাইরের খেলা এবার চলেছে একেবারে অন্য লেভেলে।

ক্রিকেট বিশ্বকাপে উত্তাপ থাকার কথা ব্যাট–বলের লড়াইয়ে। অথচ এবারের বিশ্বকাপে সেই উত্তাপকে ছাপিয়ে গেছে রাজনৈতিক হিসাব–নিকাশ। ত্রিমুখী টানাপোড়েনের শেষ পরিণতিতে বিশ্বকাপের মঞ্চেই দেখা যাচ্ছে না বাংলাদেশকে। বিষয়টি ক্রিকেটীয় কোনো ব্যর্থতার ফল নয়, বরং মাঠের বাইরের নোংরা খেলাধুলারই প্রতিফলন—এমনটাই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। পারফরম্যান্স, র‍্যাঙ্কিং কিংবা যোগ্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল না। তবুও শেষ মুহূর্তে তালিকা থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশের নাম, সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। অভিযোগ উঠেছে, এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক সমীকরণ।

ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই বড় প্রভাবক। সূচি থেকে শুরু করে ভেন্যু নির্বাচন—সবখানেই দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়া পড়ে। এবার সেই সমীকরণে যুক্ত হলো বাংলাদেশ। ঘটনার সূত্রপাত বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া নিয়ে। ৯.২০ কোটি রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে দলে নেওয়ার পর ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ শুরু হয়। চাপের মুখে বিসিসিআই নির্দেশ দেয় মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে, যা অনুসরণ করে কলকাতা।

এরপর থেকেই ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দল, কোচিং স্টাফ, সমর্থক এমনকি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারত গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধান আসেনি। বাংলাদেশের অনড় অবস্থান এবং আইসিসির নিজস্ব অবস্থান—সব মিলিয়ে তৈরি হয় জটিল এক সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত সেই সমীকরণের সবচেয়ে সহজ সমাধান হিসেবে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের বাইরে রাখার পথই বেছে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ জানালেও আইসিসি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে এ ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়াই নিরাপদ মনে করা হয়। যদিও ধীরে ধীরে কেউ কেউ মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন ইংলিশ ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন। সাবেক এই ইংলিশ ক্রিকেটারের মতে, ‘বাংলাদেশ যেভাবে নিজেদের অবস্থানে অটল থেকেছে, তা প্রশংসার যোগ্য। তারা নিজেদের ক্রিকেটার ফিজের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট কোথা থেকে শুরু হয়েছে, সেটাও মনে রাখা দরকার।’

বাংলাদেশ ইস্যুতে শুরু থেকেই সরব ছিল পাকিস্তান। সংহতি জানিয়ে প্রথমে বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বিপাকে পড়ে আইসিসি। সম্ভাব্য হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানকে খেলতে রাজি করাতে ব্যাকডোর কূটনীতি চালাচ্ছে আইসিসি। নিষেধাজ্ঞার হুমকিও রয়েছে, তবে তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট বিক্রি পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত সদস্য বাংলাদেশকে বাইরে রেখে হওয়া এই বিশ্বকাপ যে বিতর্কিত, তা নিয়ে দ্বিমত নেই। আলোও অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। আর যদি শেষ পর্যন্ত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মাঠেই না গড়ায়, তাহলে বিশ্বকাপের ওপর নেমে আসবে আরও বড় ধাক্কা। প্রশ্নবিদ্ধ হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলও। খেলাটা যে সত্যিই অন্য লেভেলে চলছে, তা তখন আর অস্বীকার করার সুযোগ থাকবে না।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন