বাংলাদেশ বাদ, পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বড় সংকটে আইসিসি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের জৌলুস অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বৈশ্বিক ক্রিকেট আসরগুলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি, যা থেকে বিপুল বাণিজ্যিক আয় করে আইসিসি। এই ম্যাচ না হওয়ায় সংস্থাটির হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ-পূর্ব এই সংকটের সূত্রপাত বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর চাপের মুখে পড়ে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এর পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতে না খেলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে আইসিসিকে চিঠিও দেয় বিসিবি।
তবে বিসিবির সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে উল্টো বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।
আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশনস সামিউল হাসান বার্নি মনে করেন, পুরো সংকটের পেছনে বিসিসিআইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘বিসিসিআই যদি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে সামাল দিত এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনত, তাহলে এত বড় সংকট তৈরি হতো না।’
বার্নি আরও বলেন, ‘অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটিই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ব্যক্তিগতভাবে জানানো হলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না।’



