চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০ এএম
শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালটি শেষ পর্যন্ত জমেনি। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিপিএলের এবারের আসরের শিরোপা ঘরে তুলেছে রাজশাহী।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখায় রাজশাহী। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ও ফারহান সাহিবজাদার সংযত ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ১৭৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দলটি।
উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৩ রান। ফারহান সাহিবজাদা ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হন। দ্বিতীয় উইকেটে কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শরিফুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২৪ রান করেন উইলিয়ামসন।
এরপর পুরো মঞ্চটাই নিজের করে নেন তানজিদ। ফিফটির পর অনায়াসেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এবারের বিপিএলে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে বিপিএল ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে শতকের স্বাদ পেলেন তিনি—এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল।
শেষ পর্যন্ত ৬২ বলে ১০০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তানজিদ। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান। জিমি নিশাম ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে বোলিংয়ে সফল ছিলেন শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম—দুজনই নেন দুটি করে উইকেট।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। দলীয় ১৮ রানের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১০ বলে ৯ রান করেন। মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান ছাড়াই আউট হন। হাসান নেওয়াজ করেন ৭ বলে ১১ রান।
চতুর্থ উইকেটে উইকেটরক্ষক জাহিদুজ্জামানকে নিয়ে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা বেগ। তবে দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি ক্রমেই চট্টগ্রামের নাগালের বাইরে চলে যায়। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন। মির্জা বেগ করেন ৩৬ বলে সর্বোচ্চ ৩৯ রান।
শেষদিকে আসিফ আলী ও আমির জামাল আগ্রাসী শুরুর ইঙ্গিত দিলেও বড় কিছু করতে পারেননি। আমির জামাল ৮ ও আসিফ আলী ২১ রান করে বিদায় নেন। বাকিরাও ব্যর্থ হন। পুরো ইনিংস থামে ১১১ রানে।
রাজশাহীর হয়ে বোলিংয়ে নায়ক বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। মাত্র ৩ ওভারে ৯ রান দিয়ে নেন সর্বোচ্চ চারটি উইকেট। হাসান মুরাদ নেন তিনটি উইকেট। জিমি নিশাম পান দুটি এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন নেন একটি উইকেট।
এর মধ্য দিয়ে রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা জিতে নেয়। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। বিপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চারবার শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার চ্যাম্পিয়ন ঢাকা, রাজশাহীর মতো দুইবার করে শিরোপা জিতেছে বরিশাল। একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর রাইডার্স।



