কুয়ালালামপুরে অভিবাসন অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন আটক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কেউ কেউ মরিয়া হয়ে ছাদে উঠে পড়েন, পানির ট্যাঙ্কে লুকান কিংবা দা ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।
‘অপারেশন কুটিপ’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ও জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে তল্লাশি চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি জানান, অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। অধিকাংশই সিকিউরিটি গার্ড, ফুড স্টল সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, মুদি দোকানের কর্মচারী ও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
লোকমান এফেন্দি জানান, প্রবাসীরা অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিতে ভাড়া নিয়ে সেখানে পাঁচ-ছয়জন একসঙ্গে থাকতেন। এতে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
এক সপ্তাহের নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৭১ জন বিদেশি আটক হন। তাদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, তিনজন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
বার্নামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বসতিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় আশপাশ থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়ে বসতিটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু অবৈধ অভিবাসী নয়, তাদের নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল।
অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।



