Logo
Logo
×

রাজনীতি

সরকারের সুরক্ষার জন্য সাইবার আইন করা হচ্ছে: আখতার হোসেন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

সরকারের সুরক্ষার জন্য সাইবার আইন করা হচ্ছে: আখতার হোসেন

জনগণের সুরক্ষার পরিবর্তে সরকারের সুরক্ষার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভয়েস ফর রিফর্মসহ একাধিক সংগঠনের আয়োজনে ‘সাইবার সুরক্ষা, না কণ্ঠরোধ’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় আখতার হোসেন বলেন, সরকার সাইবার সুরক্ষার নামে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চায় না তাদের দেওয়া তথ্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য প্রচারিত হোক।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার হওয়ার ক্ষেত্রে যে যে জায়গায় সরকারের হাত-পা বাঁধা হয়েছিল, সেসব জায়গার বাধা শুরু থেকেই সরাচ্ছে সরকার। গুম কমিশনসহ বিভিন্ন কমিশনকে নিজেদের তল্পিবাহক বানানোর জন্য সব আইন করছে সরকার।

আইজিপির ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, আইজিপি যে ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন, এটাকে সরকারের বক্তব্য ধরে নিতে পারেন। সরকারের প্রস্তুতি আছে বলেই আইজিপি এটা বলেছেন। এ বক্তব্যের জন্য আইজিপিকে জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, অপরাধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আইনে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। জুয়া ও প্রতারণার মতো অপরাধ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তবে সরকার, রাজনীতি বা কোনো নীতির সমালোচনাকে মানহানির আওতায় আনা যাবে না।

তিনি বলেন, আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখতে হবে, যাতে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে। সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একইভাবে নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রস্তাবিত সংশোধনী ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, অনলাইনে অপতথ্য ও মিথ্যা প্রচারের নতুন বাস্তবতা মোকাবিলায় সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন। তবে নতুন করে আইনে গুজব ও অপতথ্যসংক্রান্ত ধারা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কেউই চাই না, বাংলাদেশে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের সময় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটির পুনরাবৃত্তি হোক।

তিনি আরও বলেন, মানহানির বিষয়টি সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে আলাদা করে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে তার প্রতিকার পাওয়া যায়।

গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, নতুন সরকারের এই আট মাসের মধ্যে সাইবার আইনের আওতায় করা মামলাগুলোর বড় একটি অংশ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমে সমালোচকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অল্টারনেটিভের সংগঠক ডা. তাজনূভা জাবিন বলেন, সরকারের সমালোচনা করলে দ্রুত গ্রেফতারের ঘটনা ঘটলেও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ নেই।   

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনে সংশোধনী আনার উদ্যোগকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, সরকারের সমালোচনা নিয়ন্ত্রণ এবং সমালোচকদের গ্রেফতারের সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহের সাথী আক্তার নিজের ফেসবুক লাইভে সরকারকে ভোট দেওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সরকারের সরাসরি সমালোচনাও করেননি, অথচ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজব ও অপতথ্য যাচাইয়ের স্পষ্ট প্রক্রিয়া না থাকা এবং কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা ও কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির বিধান উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।

এ ছাড়া মানহানিকে সাইবার আইনের বাইরে রাখা, মোবাইল কোর্টের পরিবর্তে জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, প্ল্যাটফর্মের স্বচ্ছতা এবং নারী-শিশু নির্যাতনকে ডিজিটাল অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ করেছেন তিনি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন