Logo
Logo
×

রাজনীতি

ভারত তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে: নাহিদ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

ভারত তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের অধীনে, ভারত তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়— যার মধ্যে মুসলিম, খ্রিষ্টান, শিখ এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুরা অন্তর্ভুক্ত— তাদের সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা মুসলিমদের ওপর চালানো এই পরিকল্পিত নিপীড়নের বিষয়টি অবিলম্বে আমলে নেয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতের আসামে কর্তৃপক্ষের দ্বারা ১ হাজার ১০০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিমের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় ১০টিরও বেশি মসজিদও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে কিছু মসজিদ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে ছিল।

কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপগুলোকে সরকারি ও বনভূমি থেকে তথাকথিত ‘দখলদারদের’ উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়া হিসেবে যৌক্তিক দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারেরই এই অঞ্চলের সাথে দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা ভারতের স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই এই জমিতে বসবাস করে আসছেন।

তিনি বিবৃতিতে বলেন, যথাযথ পুনর্বাসন ও পুনর্সংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিবর্তে, কর্তৃপক্ষ অনেক পরিবারকে বাস্তুচ্যুত ও অসহায় অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। এমনকি কিছু পরিবারকে আটক কেন্দ্রে (ডিটেইনশন সেন্টার) রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। এই সাম্প্রতিক অভিযানটি ভারতে বাঙালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিপীড়নের একটি উদ্বেগজনক ধারার অংশ, যা মূলত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির দ্বারা পরিচালিত। গত এক দশকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ সময় ধরে, ভারতের বাঙালি মুসলিমরা দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক বহিষ্কার এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বর্তমান সরকার মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং এমন সব পদক্ষেপ কার্যকর করছে, যা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এটি ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সেই বেআইনি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়— যে ঘটনাটি আজও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের অধীনে, ভারত তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়— যার মধ্যে মুসলিম, খ্রিষ্টান, শিখ এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুরা অন্তর্ভুক্ত— তাদের সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা মুসলিমদের ওপর চালানো এই পরিকল্পিত নিপীড়নের বিষয়টি অবিলম্বে আমলে নেয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, মানবাধিকারের এই গুরুতর লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের জন্য ভারত সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। জাতি, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতার নীতি সমুন্নত রাখা তাদের দায়িত্ব। ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন