বন্যার পর উন্মোচিত হচ্ছে কক্সবাজারের ক্ষয়ক্ষতি
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
দশম দিনে এসে কক্সবাজারে কমছে বৃষ্টি, ফলে প্লাবিত এলাকার পানি কিছু নামতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভেসে উঠতে শুরু করেছে ক্ষত চিহ্ন। টানা ৯ দিনের ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত এলাকার ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক বিবরণী সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য মতে, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ৯ দিনে কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে কক্সবাজার জেলার ৭১ টি ইউনিয়নে ৫ টি পৌরসভার মধ্যে ৭০ ইউনিয়ন ও ৪ টি পৌরসভার ৪৯ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি ছিলো অন্তত আড়াই লাখ মানুষ।
যেখানে পাহাড় ধস ও পানিতে ভেসে ১৩ রোহিঙ্গা সহ ৩০ জন নিহত, নিখোঁজ রয়েছে একজন। এই ৯ দিনে ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ১৬১৩ টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২০৪৮ কিলোমিটার সড়ক ও ৭৯ টি সেতু ও কালর্ভাট।
জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া প্রাপ্ত তথ্য মতে, চকরিয়ার ১০ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। যেখানে ৬ জন নিহত ও ১ জন নিখোঁজ হন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ৩০০ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০ টি সেতু ও কালর্ভাট।
মাতামুহুরি উপজেলার ৭ ইউনিয়ন ৮৫ শতাংশ প্লাবিত হয়ে নিহত হন ১ জন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ১৯০ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০ টি সেতু ও কালর্ভাট।
পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৯৫ শতাংশ প্লাবিত হয়ে নিহত হন ২ জন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ৪৫০ টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও ২টি সেতু ও কালর্ভাট।
মহেশখালী উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৫০ শতাংশ প্লাবিত হয়ে নিহত হন ১ জন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ২০০ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১২শত কিলোমিটার সড়ক ও ২টি সেতু ও কালর্ভাট।
কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়ন ৬৫ শতাংশ প্লাবিত হয়ে নিহত হন ১ জন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ২৫০ টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৯ কিলোমিটার সড়ক ও ২ টি সেতু ও কালর্ভাট।
কক্সবাজার সদরের ৫ ইউনিয়ন ২৫ শতাংশ প্লাবিত হয়ে নিহত হন ৩ জন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ১৮ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২০ কিলোমিটার সড়ক ও ৪টি সেতু ও কালর্ভাট।
রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ৩৫ শতাংশ প্লাবিত হয়ে নিহত হন ২ জন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ২৫ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫০ কিলোমিটার সড়ক ও ৫টি সেতু ও কালর্ভাট।
ঈদগাঁও উপজেলার ৫ ইউনিয়ন ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ৩০ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫ কিলোমিটার সড়ক।
উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়ন ২৫ শতাংশ প্লাবিত হয়েছে। যেখানে ১৩ রোহিঙ্গা সহ নিহত ১৪ জন। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ৫০ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৬ কিলোমিটার সড়ক ও ১২টি সেতু ও কালর্ভাট।
টেকনাফ উপজেলার ৬ ইউনিয়ন ১ পৌরসভার ২৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ির সংখ্যা ১০০ টি, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫ কিলোমিটার সড়ক ও ১৫ টি সেতু ও কালর্ভাট।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ৯ দিনে জেলার ৬১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত এলাকার মানুষদের ৭৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৯৮ মেট্টিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে ৩৮১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল বিপদসীমা অতিক্রম করায় বিভিন্ন এলাকায় মোট ৪৪টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় ২৫ মিটার অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে বলে তথ্য জানিয়েছে।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রমাণিক জানিয়েছেন, ৯ দিনে কৃষি ক্ষেত্রে ৪২১২ হেক্টর ফসল নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যেখানে আউশ ধান রয়েছে ২৬২০ হেক্টর, আমানবীজ তলা রয়েছে ৪৭০ হেক্টর, শাক-সবজী রয়েছে ৯৯৫ হেক্টর ও পান বরজ রয়েছে ১৬৬ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সংখ্যা ৪৩২১০ জন।



