২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তাদের প্রথম বাজেট। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটটি অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এ বাজেট সংসদে পাশ হবে ৩০ জন।
প্রস্তাবিত এই বাজেটকে উৎপাদন বিনিয়োগ ব্যবসাবান্ধব একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি একটি ক্রিয়েটিভ বাজেট।’
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনের নিজের চেম্বারে বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ বাজেট মূলত উৎপাদন বান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব। এ বাজেটে যে ছাড়গুলো দেওয়া হয়েছে, যে রেয়াত দেওয়া হয়েছে, আমরা এর আগে এত বড় ছাড় দেখতে পাইনি।’
শিল্প, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের দিক তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই বাজেটে শিল্প খাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এর ফলে অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে। আমরা আশা করি যে খুব দ্রুত বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে, তার চিন্তা ভাবনাগুলোকে একত্র করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবার সহযোগিতা নিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করেছেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং শুধু অর্থনীতি নয়, একই সঙ্গে এ সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। মাঝখানে ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট তারাও ঠিক সেইভাবে দেশকে একটা ট্র্যাকের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সমস্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি, অগোছালো প্রশাসন এবং অর্থনীতির চরম দুরবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব এসে পড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বাজেট পেশ করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ বাজেটটাতে প্রতিফলিত হয়েছে যে, সরকার কতটা আন্তরিক, দেশের অর্থনীতিকে তারা পুনর্বাসন করতে চায় এবং একই সঙ্গে একটা গতি ফিরিয়ে আনতে চায়।



