যেকোন সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই মহানগর ও কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
যেকোন সময় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগরের ২ কমিটিসহ কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিএনপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাই বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন অনেক নেতা। তাদের অধিকাংশই রাজপথের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদলের সাবেক ত্যাগী নেতাকর্মী।
দলীয় সূত্রমতে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাজিব আহসান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রীত্বও পেয়েছেন। এরপর থেকে তারা আগের মতো নেতাকর্মীদের সময় দিতে পারছেন না। এছাড়া তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটি পুনর্গঠন অথবা নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি যেকোনো সময় ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনাই বেশি। তাই বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় না হলেও মহানগরীর দায়িত্ব পেতে আগ্রহী।
রাজধানীর নয়াপলন্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন।
এছাড়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান।
তবে, কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ খান, সাবেক প্রকাশনা সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সমবায় সম্পাদক মোশারেফ হোসেন মুশু।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করা নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহ-সভাপতি মো. হানিফ তপন, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. লিটন মাহমুদ বাবু, সাধারণ সম্পাদক মহসিন সিদ্দিকী রনি, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক রুহুল আমিন সোহেল।
অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সহ সভাপতি মো. আব্দুল জলিল, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদার, সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন রিন্টু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা। এর বাহিরেও আরও অনেকে বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে পাপ্পা সিকদার কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ না পেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হতে চান। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লাও সভাপতি হতে আগ্রহী। আর মোশারেফ হোসেন মুশু ও মো. আব্দুল জলিল মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী।
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মো. শেখ ফরিদ হোসেন বলেন, প্রায় সব সংগঠন ঢেলে সাজানো পরিকল্পনা করছেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান, তখন স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের বিষয়ে তিনি হয়তো কোনো সিদ্ধান্ত দিবেন।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিষয়ে পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারলে ভালো হতো। আমাদের দলের চেয়ারম্যান মহোদয় রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় দেরি হচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিষয়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন, সেটাই হবে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, সাধারণত স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় আসে। এবারও হয় তো তাই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকা বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী বলেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হলে আবার কমিটি হবে এটাই নিয়ম, সেভাবে আমাদের অভিভাবক চাইলে নতুন কমিটি হবে।



