স্বামী ছাত্রদলে পদ পাওয়ায় খুশিতে স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট, সমালোচনার ঝড়
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
নরসিংদীতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে স্বামীর ২নং সহ-সভাপতি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর ফেসবুকে অভিনন্দন বার্তায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা।
গত ১ মে প্রকাশিত জেলা কমিটিতে ২ নম্বর সহ-সভাপতি হিসেবে সজীব পাল জুম্মনের নাম ঘোষণার পর তার স্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। এর ফলে ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটি নিয়ে নীতিবাচক প্রভাব পড়েছে নরসিংদীর রাজনৈতিক অঙ্গনে।
গত ১ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত নরসিংদী জেলা পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। সে তালিকায় ২নং সহ-সভাপতি হিসেবে সজীব পাল জুম্মন এর নাম রয়েছে। আর এই তালিকা ও স্বামী-স্ত্রীর ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন স্ত্রী।
এ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পোস্টে একজন লিখেছেন, খুশিতে সত্য বলে দিয়েছে, ভাই সে সত্যবাদী বউ পেয়েছে এটা ভাগ্যের ব্যাপার এই রকম হাজার নেতা কর্মী বিয়ে করে ২-৩ টা করে সন্তান আছে তারাও ছাত্রদল করে।
স্বামীর পদপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্ত্রী লিখেছেন, “প্রাণঢালা অভিনন্দন জামাই, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের ২ নম্বর সহ-সভাপতি।” স্বামী-স্ত্রীর ছবিসহ পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই মন্তব্য করেন, এই পোস্ট অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে, যা সংগঠনের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষ করে ‘ছাত্র’ রাজনীতির সংগঠনে বিবাহিত ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে কমিটি গঠনে ত্যাগী ও দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং প্রভাবশালী বা বিতর্কিত প্রেক্ষাপটের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আর এই পোস্ট দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটিতে স্থান না পাওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
তারা বলেন, এই পোস্টই প্রমাণ করে ঘোষিত কমিটিতে ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যার কারণে এ কমিটিতে বিবাহিত ও আন্দোলন সংগ্রামের আগে থেকেই প্রবাসে অবস্থান করা প্রবাসীদের নামও স্থান পেয়েছে।
নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মাঈনউদ্দিন ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব অতীতে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন এই কমিটিতে দেখা যায়নি। বরং আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত ও অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন নরসিংদীর রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, দলীয় পদায়নে আদর্শ ও ত্যাগের মূল্যায়ন কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।



