Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুই দশক পর ক্ষমতায় বিএনপি

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

দুই দশক পর ক্ষমতায় বিএনপি

আবারও এক অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। আওয়ামী লীগবিহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে জয় পেয়ে প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে দলটি।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ১৫১টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী। জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাস্তবতায় দলটি ৪২টি আসন পেয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। চারটি আসনে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এখনও ৯৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা বাকি, যার বেশ কিছুতে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটই জয়ী হয়েছে। এর অর্থ, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে জনগণ সম্মতি দিয়েছেন। যদিও গণভোটের প্রশ্ন ও প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা রয়েছে; অনেকের অভিযোগ, ভোটারদের পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এর হাতে গড়া বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সরকার গঠন করেছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এবার দলটির নেতৃত্বে আছেন তাঁরই সন্তান তারেক রহমান। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে প্রায় তিন দশক ধরে পরিচিত রাজনৈতিক বিন্যাসে বড় পরিবর্তন আসবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘ সময় আবর্তিত হয়েছে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে ঘিরে। বিদেশি গণমাধ্যম একসময় এই দ্বন্দ্বকে ‘দুই বেগমের যুদ্ধ’ বলেও আখ্যা দিয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর টানা সময় ক্ষমতার বাইরে ছিল বিএনপি; আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিন নির্বাচনের দুটি বর্জন ও একটিতে ভরাডুবির অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ফলে ৩৫ বছরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীহীন এক ভিন্ন বাস্তবতায় ভোটে নামে বিএনপি।

লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরে নির্বাচনি প্রচারে নামেন তারেক রহমান। সিলেট থেকে শুরু করে দেশজুড়ে জনসভায় তিনি ‘পরিকল্পিত রাষ্ট্রগঠনের’ প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটের দিন রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে তিনি ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামী নতুন আঙ্গিকে প্রচার চালায়; নারীর অধিকার থেকে সুশাসন পর্যন্ত নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, যদিও কিছু বক্তব্য নিয়ে বিতর্কও হয়।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছিল ৩৬ হাজারের বেশি কেন্দ্রে; চূড়ান্ত হার এখনও প্রকাশ হয়নি।

ভোট চলাকালে বিভিন্ন জেলায় ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যার মধ্যে পাঁচজন অসুস্থ হয়ে মারা যান বলে জানা গেছে। কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলে কয়েকটি দল। রাতে কয়েকটি আসনে ফল ‘ঝুলিয়ে’ রাখার অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তবে নির্বাচন কমিশন বলেছে, কোথাও ভোট স্থগিত করতে হয়নি এবং পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ফল ঘোষণার পরও সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তার ভাষায়, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সবার পেশাদারিত্ব প্রমাণ করেছে গণতন্ত্রের প্রতি দেশের অঙ্গীকার অটুট। তিনি বলেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস; মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।

দীর্ঘ মেরুকরণের পর এই নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এখন নজর ক্ষমতা গ্রহণ, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং প্রতিশ্রুত ‘নতুন বাংলাদেশের’ রূপরেখা কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার দিকে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন